পবায় পূর্ব বিরোধের জেরে যুবদল কর্মীকে মারধর, গ্রেপ্তার ২
রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা কলেজ মোড়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে চাউল-ভুষির ব্যবসায়ী ও নওহাটা পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ককে মারধর ও দুই লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত ওই ব্যবসায়ী বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় পবা থানায় মামলা হয়েছে।
পুলিশ দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। আহত ব্যবসায়ীর নাম মো. আতাবুর রহমান (৩৭)। তিনি নওহাটা পৌরসভার বাঘাটা এলাকার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে ব্যবসার কাজে বাড়ি থেকে বের হয়ে নওহাটা কলেজ মোড়ে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নওহাটা কলেজ মোড়ের একটি অটো পার্টস দোকানের সামনে পৌঁছালে পূর্ব বিরোধের জেরে আতাবুর রহমানকে দেখে কয়েকজন ব্যক্তি গালিগালাজ শুরু করেন। তিনি সেখান থেকে চলে যেতে চাইলে অভিযুক্তরা তার পথরোধ করেন। পরে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
মারধরে আতাবুর রহমানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরিবারের দাবি, তার কয়েকটি হাড় ভেঙে গেছে। হামলার সময় তার কাছে থাকা ব্যবসার দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় আহত আতাবুর রহমানকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় আতাবুর রহমানের বাবা মো. মতিউর রহমান বাদী হয়ে পবা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন— মহানন্দাখালী এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. হাসানুজ্জামান (৪৫), মৃত কছিমুদ্দীনের ছেলে মো. আজাদ আলী (৪৯), মৃত আনিছের ছেলে মো. রসুল (৪৪) ও মৃত আয়াতুল্লাহর ছেলে মো. আইনুদ্দিন (৪৩)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, পূর্বের একটি মামলার বিরোধ থেকেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের ৩০ অক্টোবর আতাবুর রহমান বাদী হয়ে পবা থানায় ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রে নাশকতা ও হামলার ঘটনায় একটি মামলা করেন। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে মো. রসুল ও মো. আইনুদ্দিন ছিলেন। সেই মামলার জের ধরেই তাকে একা পেয়ে হামলা করা হয়।
আতাবুর রহমানের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে জেলা যুবদলের সদস্য ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, আতাবুর রহমান নওহাটা পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি বলেন, “পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আতাবুরের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। প্রকাশ্যে একজন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক কর্মীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
ঘটনার কিছুক্ষণ পর পবা থানা মোড় এলাকায় গেলে স্থানীয় লোকজন মামলার দুই আসামি হাসানুজ্জামান ও আজাদ আলীকে আটক করে মারধর শুরু করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মতিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নওহাটা কলেজ মোড় এলাকায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত আতাবুর রহমানের বাবা মতিউর রহমান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।