দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ঈশ্বরদীতে
গতকাল সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৪ ডিগ্রি প্রবাহিত হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদীতে। ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, সোমবার ঈশ্বরদীতে চলতি শীত মওসুমে সর্বনিম্ন তাপমাতার রেকর্ডও হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সোমবার ঈশ্বরদীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
এদিকে শীতের দাপটে জনজীবনে নেমে এসেছে ভোগান্তি। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের কর্মজীবনে পড়েছে বড় ধরনের ভাটা। গত দুই সপ্তাহ ধরে অব্যাহত শীতের সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল বাতাস। দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনা। ফলে হাট-বাজার ও রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
গতকাল সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উপজেলার রেলগেট, আলহাজ্ব মোড়, বাজার ও রেলওয়ে স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা যায় ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে শ্রমজীবী মানুষগুলো কাজের অভাবে অলস সময় পার করছেন। অনেক জায়গায় শীত নিবারণের জন্য খড়কুটো জোগাড় করে আগুন জ্বালাতেও দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশার ঘনত্ব কিছুটা কমলেও শীতের তীব্রতা কমেছেনা।
শহরের রেলগেট এলাকার শ্রমিক হাটে কাজের অপেক্ষায় বসে থাকা পাকশীর কুরবান আলী বলেন, ভোর থেকেই কাজের আশায় এখানে বসে থাকতে হয়। কিন্তু এত কুয়াশা আর শীতের কারণে কেউ কাজ নিতে আসছে না। টানা দুই দিন ধরে বসে আছি, কোনো কাজ নেই।
শহরের পাইকারি সবজি বাজারে ফুলকপি বিক্রি করতে আসা বরইচরা গ্রামের ইশারত আলী জানান, তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে বেচাকেনা অনেক কমে গেছে। সাঁড়াগোপালপুর এলাকার রিকশাচালক সঞ্জু সরদার বলেন, প্রতিদিন সকাল ৭টায় রিকশা নিয়ে বের হই। কিন্তু আজ সকালে কুয়াশায় কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা বেশি দেখে ৯টার পর রাস্তায় বের হয়েছি, তবু রাস্তায় যাত্রী নেই। আয় করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্টেশন ও মালগুদাম এলাকায় শীতের তীব্রতায় ছিন্নমূল মানুষগুলোকে চরম কষ্টে দিন কাটাতে দেখা গেছে। খরকুটো জোগাড় করে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। গরম কাপড়ের অভাবে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। শুষ্ক আবহাওয়া ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে বায়ুদূষণ বেড়েছে। এর প্রভাবে শিশু ও বয়স্করা ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আলী এহসান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর চাপ প্রতিদিনই বাড়ছে।