মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

নির্বাচনের আগে রাবির জনবল নিয়োগ বন্ধ রাখার দাবি

রাবি প্রতিবেদক ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
রাবি প্রতিবেদক ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০২ অপরাহ্ন
নির্বাচনের আগে রাবির জনবল নিয়োগ বন্ধ রাখার দাবি

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট  প্রভাবমুক্ত রাখার স্বার্থে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের জনবল নিয়োগ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছে বিএনপিপন্থী তিনটি কর্মচারী সংগঠনের নেতারা। বুধবার (৭ জানুয়ারি) উপাচার্য বরাবর দেওয়া স্বারকলিপিতে এই দাবি জানান তাঁরা। একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করারও আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।


দাবি জানানো কর্মচারীরা হলেন- শহীদ হবিবুর রহমান হলের নিম্নমান সহকারী ও বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ফেডারেশনের যুগ্ন-আহ্বায়ক মো. মাসুদুর রহমান, ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের উচ্চমান সহকারী ও রাবি সহায়ক কর্মচারী ফোরামের সভাপতি মো. সইজুদ্দিন, আইন বিভাগের নিম্নমান সহকারী ও ও রাবি শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, স্টুয়ার্ড শাখার নিম্নমান সহকারী ও রাবি সহায়ক কর্মচারী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. পিয়ারুল ইসলাম এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রহরী ও রাবি শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ শেখ।


স্মারকলিপিতে তাঁরা বলেছেন, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করেছেন। বাংলাদেশ সরকারের আইন অনুযায়ী এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে শুধুই নিয়ম রক্ষার তাগিদে অর্থাৎ সরকারের কাজ ‘রুটিন ওয়ার্ক’, বাকি সবই ন্যস্ত হয়েছে নির্বাচন কমিশনে।


তারা আরও বলেছেন, সরকার নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত যেমন নিতে পারবে না, তেমনই নির্বাচন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করবে এমন কোনো কাজ করতে পারবে না। জনবল নিয়োগ একটি নীতিনির্ধারণী বিষয় এবং সরকার এই কাজ থেকেও বিরত রয়েছে। নির্বাচন সংক্রান্ত এই আইন মেনে চলতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান বাধ্যকর বটে। আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে পরিলক্ষিত করছি, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসী কর্মী বাহিনীকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী হিসেবে গণহারে দৈনিক মজুরি ও এ্যাড-হক ভিত্তিতে নিয়োগদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ও অন্যতম শীর্ষ কর্তাদের একটি অংশ এবং বাইরের উক্তরূপ রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।


তাঁরা বলেন, এটি সরকার ও দেশবিরোধী একটা ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র বলে আমরা মনে করি। চাকরি প্রত্যাশীরা সংঘবদ্ধভাবে প্রতিনিয়ত রাজশাহী বিশ্বদ্যিালয়ে দিনে-দুপুরে মহড়া দিচ্ছে, ফলে ক্যাম্পাসে আতঙ্কজনক ও ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই গোষ্ঠী বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিজেদেরকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে নানামুখী প্রভাব তৈরি করছে, যা আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে।


উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তাঁরা বলেছেন, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রায় অর্ধশত বহিরাগত শ্রমিককে কাজ করানো হয়েছে, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, অফিস ও দপ্তরে স্থায়ীভাবে কর্মরত রয়েছে অন্তত চারশত পরিচ্ছন্নতা স্টাফ। সমাবর্তনে কাজ করা বহিরাগত পরিচ্ছন্নতা কর্মীর আড়ালে মূলত এরা সকলেই ছিল একটি বিশেষ দলের কর্মী। কথিত এই বহিরাগত পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা বর্তমানেও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রবেশ করছে এবং তাদের চলাচল হুমকিস্বরুপ। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রভাবমুক্ত রাখার স্বার্থে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল পর্যায়ের জনবল নিয়োগ শতভাগ বন্ধ রাখার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করার জন্যও আর্জি জানাচ্ছি।