রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

পবায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে হিজড়াদের পাশে বাঁচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৯ অপরাহ্ন
পবায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে হিজড়াদের পাশে বাঁচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠন

রাজশাহীতে হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। কনকনে ঠান্ডা বাতাস ও ঘন কুয়াশায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী—হিজড়া ও খেটে খাওয়া মানুষ। পর্যাপ্ত বাসস্থান, উষ্ণ পোশাক ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে শীত তাদের জন্য আরও বেশি দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এই কঠিন সময়ে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাঁচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠন। পবা উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় সংগঠনটি পবা উপজেলায় হিজড়াদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে।


বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে নওহাটা বাজারে সংগঠনের কার্যালয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাঁচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা সরকার বিজলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও পবা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নাজমুল ইসলাম, সংগঠনের উপদেষ্টা আমিনুল ইসলামসহ সংগঠনের সদস্যবৃন্দ।


কম্বল হাতে পেয়ে হিজড়া রিয়া আবেগভরা কণ্ঠে বলেন,“এই শীত আমাদের জন্য শুধু ঠান্ডা নয়, বেঁচে থাকার লড়াই। রাতে ঠান্ডায় শরীর জড়সড় হয়ে আসে, চোখে ঘুম আসে না। আজ এই কম্বল পেয়ে মনে হচ্ছে কেউ আমাদের কষ্টটা বুঝেছে। আমরা অবহেলিত হলেও মানুষ—এই অনুভূতিটাই আজ সবচেয়ে বড় উপহার।”


কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন হিজড়া সাথী বলেন,“শীত এলে মনে হয় আমরা আরও একা হয়ে পড়ি। না আছে ঠিকমতো কাজ, না আছে নিরাপদ আশ্রয়। অনেক রাত কুয়াশার ভেতর কাঁপতে কাঁপতে রাত কাটে। আজ এই কম্বল শুধু গা ঢাকার জিনিস নয়, এটা আমাদের জন্য ভালোবাসা আর বেঁচে থাকার সাহস। যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের কাছে আমরা আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো।”


পবা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নাজমুল ইসলাম বলেন, শীত মৌসুমে সমাজের অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। হিজড়া জনগোষ্ঠী সমাজে নানা ধরনের বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার। কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে শীতকাল তাদের জন্য সবচেয়ে কঠিন সময়। এ অবস্থায় শীতবস্ত্র বিতরণ শুধু সাময়িক সহায়তা নয়, বরং মানবিক সহমর্মিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।


বাঁচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা সরকার বিজলী বলেন, শীতের তীব্রতায় যারা সবচেয়ে বেশি কষ্টে থাকে, তাদের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের লক্ষ্য। হিজড়া জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। আমরা চাই সমাজের সব শ্রেণির মানুষ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে আসুক।


তিনি আরও বলেন, শৈত্যপ্রবাহের সময় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা জরুরি। এতে করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান কিছুটা হলেও উন্নত হবে এবং মানবিক সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।