মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

রাবিতে নিয়োগ বন্ধ রাখার দাবি জানানো কর্মচারীকে উঠিয়ে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ

রাবি প্রতিবেদক ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
রাবি প্রতিবেদক ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২৮ অপরাহ্ন
রাবিতে নিয়োগ বন্ধ রাখার দাবি জানানো কর্মচারীকে উঠিয়ে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সবধরনের জনবল নিয়োগ বন্ধ রাখার দাবি জানানো এক কর্মচারীকে কর্মস্থল থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাবি’র শহীদ হবিবুর রহমান হলে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন হলটির প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মোতাহার হোসেন। প্রক্টর বরাবর দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগে এসব তথ্য জানিয়েছেন তিনি।


ভুক্তভোগী কর্মচারীর নাম মো. মাসুদুর রহমান। তিনি রাবি’র শহীদ হবিবুর রহমান হলে নিম্নমান সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সাংগঠনিকভাবে তিনি বিএনপিপন্থী কর্মচারীদের সংগঠন বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ফেডারেশনের যুগ্ন-আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন।


লিখিত অভিযোগে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মোতাহার হোসেন জানিয়েছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রভাবমুক্ত রাখার স্বার্থে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল পর্যায়ের জনবল নিয়োগ শতভাগ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অফিসে কর্মরত ৫ জন সহায়ক ও সাধারণ কর্মচারীর (যারা বিভিন্ন সমিতির সদস্য ও নেতৃত্বের দায়িত্বে রয়েছে) যুক্ত স্বাক্ষরে একটি আবেদন গত ৭ জানুয়ারি মাননীয় উপাচার্যের নিকট প্রদান করে।


এরই জেরে, আজ ৮ জানুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টায় অন্তত ৫০ জনের অজ্ঞাতনামা বহিরাগত একটা গ্রুপ আকস্মিকভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলে প্রবেশ করে হলের নিম্নমান সহকারী পদে কর্মরত মো. মাসুদুর রহমানকে অফিস এলাকায় (১০নং কক্ষের সামনে) ঘিরে ধরে মারধর করার চেষ্টা চালায়, সন্ত্রাসী আচরণ করে এবং এক পর্যায়ে তাকে হল থেকে উঠিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।


লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চরম হৈচৈ শুরু হলে সাধারণ ছাত্র ও অপর স্টাফরা এগিয়ে আসে এবং মো. মাসুদুর রহমানকে টানতে টানতে হল গেট পর্যন্ত টেনে হেচড়ে নিয়ে যায় এবং তাকে (মো. মাসুদুর রহমানকে) দেখে নেয়ার হুমকী দিয়ে হল ত্যাগ করে। উল্লিখিত বহিরাগতরা সাড়ে ১২টায় প্রবেশ করে ১০ মিনিট পর্যন্ত অবস্থান করে উক্তরূপ সন্ত্রাসী ঘটনা সংঘটিত করে।


এই ঘটনা ঘটার সময় হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভিকটিম মো. মাসুদুর রহমান আমার বরাবর দাখিলকৃত এক আবেদনে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন (যা সংযুক্ত)। হলে বর্তমানে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং মো. মাসুদুর রহমান, হলের স্টাফগণ ও শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। আমি মনে করি সংঘটিত ঘটনাটি একটি সন্ত্রাসী ঘটনা এবং প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা জরুরি।