ঈশ্বরদীতে সেন্ট্রাল ‘পিভট ইরিগেশন-’ কৃষিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা
বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো পাবনার ঈশ্বরদীতে। দেশে প্রথমবারের মতো আধুনিক সেচব্যবস্থা ‘ভ্যালি ইরিগেশন সেন্ট্রাল পিভট’ প্রযুক্তি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। অস্ট্রিয়ার আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটি স্থাপন করা হয়েছে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ঈশ্বরদীস্থ মুলাডুলি ইক্ষু খামারে। সোমবার (১২ জানয়ারি) মুলাডুলিতে গিয়ে দেখা গেছে, খামারের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এ বিষয়ের কর্মযজ্ঞ চলছে।
বিএডিসি সূত্র জানায়, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে বহুল ব্যবহৃত সেন্ট্রাল পিভট ইরিগেশন প্রযুক্তি এই প্রথম বাংলাদেশে চালু হচ্ছে। এ প্রযুক্তিতে নিচ থেকে নয়, বরং পাইপের সঙ্গে যুক্ত স্প্রিংকলারের মাধ্যমে ওপর থেকে জমিতে পানি ছিটানো হয়। ফলে কম সময়, কম শ্রমিক ও কম পানি ব্যবহার করেই বড় পরিসরের জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ দেশের সেচ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
পরীক্ষামূলকভাবে মুলাডুলি ইক্ষু খামারে প্রকল্পটি চালু করা হচ্ছে। সফল হলে সরকারি বেসরকারি খামারসহ বিভিন্ন কৃষি উদ্যোগে এই প্রযুক্তির ব্যবহার ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করছেন কৃষিবিদরা। এতে একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদন, চাষের সময় হ্রাস এবং পানির উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় সম্ভব হবে। পাশাপাশি আবাদযোগ্য জমির পরিমাণও বাড়বে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বর্তমানে চিনের মি. জ্যাক ও ভিয়েতনামের মি. খোয়া নামের দুই বিদেশি বিশেষজ্ঞ কর্মরত রয়েছেন।
মুলাডুলি ইক্ষু খামারের ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম জানান, খামারের মোট জমির পরিমাণ ১ হাজার ১০১ একর। এর মধ্যে ৯৪০ একর জমিতে আখচাষ করা হয়। বাকি জমিতে রয়েছে নিচু এলাকা, রাস্তাঘাট, শ্রমিক-স্টাফ কলোনি, পুকুর এবং বাগান। সেন্ট্রাল পিভট প্রযুক্তির মাধ্যমে সাড়ে তিনশো মিটার আওতাজুড়ে আনুমানিক ১৫০ একর জমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আধুনিক কৃষিতে পানি ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেন্ট্রাল পিভট প্রযুক্তি সেচ ব্যবস্থাকে করবে দ্রুত, স্বয়ংক্রিয় ও সাশ্রয়ী। এই প্রকল্প সফল হলে দেশের বৃহৎ কৃষিখাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সংকটের এই সময়ে এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগ কৃষি উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘দেশে প্রথমবারের মতো এই আধুনিক সেচ ব্যবস্থা আমাদের খামারে স্থাপন হচ্ছে। এটি শুধু মিলের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের কৃষির জন্য বড় অর্জন। সেন্ট্রাল পিভট প্রযুক্তির মাধ্যমে সময়, শ্রম ও পানি তিনটিই সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। আগে যেখানে সেচ দিতে দুই দিন সময় লাগত, সেখানে এখন কয়েক ঘণ্টাতেই কাজ শেষ করা যাবে। এর ফলে একই জমিতে একাধিক মৌসুমি ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।’ দেশের কৃষিতে আধুনিকায়নের গতি আরও ত্বরান্বিত করবে এবং বাণিজ্যিক কৃষির নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।