রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

ঘরের আঙিনায় সফল খামার, জায়েন্ট কটনিক্র কোয়েলে চারঘাটে টিটুর সাফল্য

চারঘাট প্রতিনিধি ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
চারঘাট প্রতিনিধি ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৫ অপরাহ্ন
ঘরের আঙিনায় সফল খামার, জায়েন্ট কটনিক্র কোয়েলে চারঘাটে টিটুর সাফল্য

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় জায়েন্ট কটনিক্র জাতের কোয়েল চাষ করে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপ্ন করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা ইনজামামুল হক টিটু। আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নত জাত ব্যবহার করে অল্প সময়েই নিজ বাড়িতে তিনি এই খাতে লাভজনক একটি খামার গড়ে তুলেছেন। 


চারঘাট উপজেলার শিবপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য এহসানুল হকের ছেলে টিটু। নিজ বাড়িতে পরিক্ষামুললক ভাবে ২০২৫ সালে কোয়েল চাষ শুরু করে। ইউটিউব থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শখের বসে সাধারণ জাতের পরিবর্তে উন্নত জায়েন্ট কটনিক্র জাতের কোয়েল চাষে মনোনিবেশ করেন তিনি। বর্তমানে তার খামারে প্রায় পাচঁ শতাধিক জায়েন্ট কটনিক্র কোয়েল রয়েছে যা আকারে বড় ও মাংস উৎপাদনে অধিক কার্যকর। লাভজনক হওয়ায় তিনি আশা করছেন খুব শিগগিরই বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তুলবেন জায়েন্ট কটনিক্র জাতের বড় কোয়েল খামার। 


টিটু জানান, জায়েন্ট কটনিক্র জাতের কোয়েল সাধারণ কোয়েলের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং মাত্র ৫-৬ সপ্তাহের মধ্যেই বাজারজাতের উপযোগী হয়। এসব কোয়েলের ওজন তুলনামুলক বেশি হওয়ায় মাংসের চাহিদা ও বাজারমূল্যও ভালো পাওয়া যায়। পাশাপাশি এই জাতের কোয়েল নিয়মিত ডিম দেয় যা স্থানীয় বাজারে বেশ জনপ্রিয়। এই জাতের একেকটি কোয়েল পাখি ৪০-৪৫ দিনে ওজন হয় প্রায় ৪০০-৫০০ গ্রাম এবং ডিমের ওজয় হয় সাধারন জাতের চেয়ে বেশি। একেকটি কোয়েল পাখি তিনি ৫০০-৬০০ টাকায় বিক্রয় করেন যেখানে পাখি প্রতি খরচ হয় মাত্র ৪০-৪৫ টাকা। তবে তিনি আশা করছে এই জাতের পাখির বাণিজ্যকরণ শুরু হলে পাখির দাম ১০০ টাকায় নেমে আসবে।


খামারে আধুনিক খাঁচা ব্যবস্থা, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে নিশ্চিত করায় রোগবালাইয়ের ঝুঁকি কম হচ্ছে বলে জানায় টিটু। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর নিয়মিত টিকা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য এগিয়ে আসলে উৎপাদন ব্যয় কমে লাভের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে তিনি জানান। 


নিজস্ব ইনকিউবেটরে ডিম থেকে বাচ্চা তুলছেন তিনি। নিজস্ব ইনকিউবেটর ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার পিস বাচ্চা তুলার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। এতে করে তার আর বাচ্চা বাইরে থেকে কিনতে হয় না, ফলে খরচও কমে যায়। নিজস্ব খামারের ডিম ব্যবহার করায় রোগঝুঁকি কমে এবং বাচ্চার মান ভালো হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বাচ্চাগু বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন তিনি। এছাড়া এই জাতের কোয়েল পাখির বাচ্চা সহজলভ্য হয় এবং এলাকার বেকার যুবকরা খুব সহজেই এই জাতের খামার তৈরি করে তাদের বেকারত্ব ঘুঁচাতে পারে। 


উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সরকার এনায়েত কবির জানান, জায়েন্ট কটনিক্র কোয়েল চাষ গ্রামীণ যুবকদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ও দ্রুত লাভজনক উদ্যোগ। টিটুর সাফল্য দেখে এই উপজেলায় বেকার যুবকরা এই খাতে আগ্রহ প্রকাশ করবে এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা করেন।