শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে, রাজশাহী নাকি চট্টগ্রাম?

সোনার দেশ ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:২১ পূর্বাহ্ন খেলা
সোনার দেশ ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:২১ পূর্বাহ্ন
পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে, রাজশাহী নাকি চট্টগ্রাম?

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ফাইনাল আজ (শুক্রবার)। প্লে-অফের কঠিন বৈতরনি পার করে ফাইনালের অপেক্ষায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স এবং চট্টগ্রাম রয়্যালস। চূড়ান্ত লড়াইয়ের আগে পরিসংখ্যানের পাতায় নড়চড়। ব্যাট হাতে এগিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চলের দলটি, অন্যপাশে বোলারদের মুন্সিয়ানায় সবার ওপরে চট্টলা। বিদেশি সংগ্রহে রাজশাহীর ধারেকাছে নেই চট্টগ্রাম। তবে, দলগত কারিশমায় আবার এগিয়ে রয়্যালস। 


কাগজে কলমে শুরু থেকেই ফেবারিটের তালিকায় ছিলো রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। হেড কোচ হান্নান সরকারের বুদ্ধিদীপ্ত পরিকল্পনায় একেবারে নিলামের টেবিলেই বাজিমাত করে বরেন্দ্র অঞ্চলের ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। অধিনায়ক হিসেবে শান্তর অন্তর্ভুক্তি, সঙ্গে এক ঝাঁক তরুণ মুখ আর মুশফিকুর রহিমের অভিজ্ঞতায় ভর করে বিপিএল আসর শুরু করেছিলো রাজশাহী।


জয় এসেছিলো তাদের প্রথম ম্যাচেই। শান্তর সেঞ্চুরিতে তারকাবহুল সিলেটকে ৮ উইকেটে হারিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয় হান্নান বাহিনী। এরপর ঢাকার সঙ্গে এক ম্যাচ হারলেও, পরের ম্যাচে নোয়াখালীকে উড়িয়ে দেয় শান্তরা।


চতুর্থ ম্যাচটা তো ইতিহাস। রংপুরের বিপক্ষে আসরের প্রথম সুপার ওভারে গড়ানো ম্যাচে জয় পায় রাজশাহী। কিন্তু এরপরেই চট্টগ্রামের কাছে পা ফসকায় তাদের। তবে, রংপুর আর ঢাকাকে টানা দুই ম্যাচে হারিয়ে আবারও কক্ষপথে ফিরে আসে ওয়ারিয়র্স। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। ৯ জয় আর ৩ হারের পরিসংখ্যান নিয়ে তারা এখন ফাইনালে।


ব্যাট হাতে রাজশাহীর বড় অস্ত্র নাজমুল হোসেন শান্ত। ৩১ গড়ে তার রান ৩৪৪। তানজিদ হাসান তামিম শুরুতে ছন্দে না থাকলেও, ফিরেছেন ফর্মে। ৩৪ গড়ে রান ২৪৪। মুশফিকুর রহিম টানা দুই ম্যাচে ডাক মারলেও, মোট রানে আছেন দলের তিন নম্বরে। এরপরের জায়গাটা বিদেশি রিক্রুট মোহাম্মদ ওয়াসিমের। তবে, কেইন উইলিয়ামসন এবং জিমি নিশামদের ভিড়ে তার স্কোয়াডে জায়গা পাওয়াটা হবে বড় খবর।


শেষ ম্যাচে সুযোগ না পেলেও, রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বোলিং ইউনিটের নেতৃত্ব রিপন মন্ডলের হাতে। এখন পর্যন্ত ১৭ উইকেট পেয়েছেন তিনি। বিনুরা ফার্নান্দোও আছেন দারুণ ফর্মে। কোয়ালিফায়ার টু’তে একাই ধসিয়ে দিয়েছিলেন সিলেটকে। ফাইনালেও এখন অপেক্ষায় তেমন কিছুর। তানজিম হাসান সাকিব এবং হাসান মুরাদরা বড় সাফল্য না পেলেও ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন তারা।


অন্যদিকে, চট্টগ্রামের শুরুটাই ছিলো নাটকীয়। আসর শুরুর একদিন আগে শেখ মেহেদীদের ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষ। বাধ্য হয়ে দলের দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। হাবিবুল বাশার সুমন, নাফিস ইকবাল, মিজানুর রহমান বাবুলের কাঁধে সওয়ার হয় চট্টলা।


আন্ডারডগ হয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও, মাঠের খেলায় তারা ছাড় দেয়নি কাউকেই। ৭ জয়ের বিপরীতে তাদের হার আছে ৫টিতে। যদিও, তাতে প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে উঠতে কোনো বেগ পেতে হয়নি রয়্যালদের। বিদেশি সংগ্রহে রাজশাহীর ধারে কাছে নেই চট্টগ্রাম। রসিংটন চলে যাওয়ার পর আস্থা রাখা যায় এমন কাউকেই এখনও খুঁজে পায়নি তারা।


চট্টগ্রামের রান মেশিন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। কোটি টাকার ক্রিকেটারের উইলো থেকে এখন পর্যন্ত রান এসেছে ২৬৩। তবে, বল হাতে দারুণ ছন্দে চট্টগ্রাম। আসরের সেরা বোলিং ফিগার এবং টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ২৪ উইকেট শরিফুল ইসলামের দখলে। শেখ মেহেদীর ঝুলিতে আছে ১৫ উইকেট।


কাগজে কলমের সব পরিসংখ্যানেই পিছিয়ে আছে চট্টগ্রাম। দলগত গড় রান যেখানে রাজশাহীর ১৪৭, সেখানে চট্টগ্রামের ১৪০। উইকেট শিকারেও অবশ্য পিছিয়ে তারা। তবে, রান হজমে আবার ভালো অবস্থানে চট্টগ্রাম। দলীয় সর্বোচ্চ ইনিংস ১৯৮ রয়্যালসদের। ৬ রান কম রাজশাহীর।


ভবিষ্যদ্বাণী কিংবা পরিসংখ্যান, সব জায়গাতেই এগিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। কিন্তু প্রথম কোয়ালিফায়ার জিতে আবার আত্মবিশ্বাসে টইটুম্বু চট্টগ্রাম। এখন দেখার বিষয়, বড় ম্যাচের স্নায়ু চাপ সামাল দিয়ে দলকে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে পারে কে? শান্ত না মেহেদী?