রাজশাহীতে বাড়ির জমি দখলে সীমানা প্রাচীর
রাজশাহী নগরীর উপরভদ্রা দেবীশিংপাড়ায় প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশ জমিমহ বাড়ি দখল নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এসময় ভেঙে দেওয়া হয়েছে বাড়ির সীমানা প্রাচীর। এছাড়াও ওখানে থেকে একটি দোকানঘরও লুটপাট চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে।
ঘটনাটি বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরের। এরপর নগরীর বোয়ালিয়া থানায় দেওয়া হয় অভিযোগ। দখলবাজদের বিরুদ্ধে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল চারটার দিকে ওই বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাড়ির মালিক আসগারী বেগমের পক্ষে পুত্রবধু কাজী রওনক জাহান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ভদ্রা মৌজায় অবস্থিত ১০ দশমিক ৩২ শতাংশ জমিটি আমার শ্বশুড় মরহুম সহিদুল হকের নামে রেকর্ডভুক্ত আছে। নিয়মিত সরকারকে খাজনা দিয়ে আসা হচ্ছে। বিগত ৩৪ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করাকালীন সময়ে কেউ এই জমির মালিকানা বা দখল নিয়ে কোনো আপত্তি তুলেনি। মাসখানেক ধরে এমান আলী নামের একজন ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা ও বহিরাগতদের দিয়ে জমিসহ বাড়িটি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, গেল বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক দুইটার সময় এমান আলীর নির্দেশে রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সৈকত পারভেজ বহিরাগত ১০/১২ জন দুর্বৃত্ত নিয়ে দেশি অস্ত্র সজ্জিত হয়ে আকস্মিকভাবে আমদের বাড়িতে জোড়পূর্বক প্রবেশ করে। তাদেরকে বাঁধা দিতে গেলে তারা পরিবারের সদস্যদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। একপর্যায়ে তারা আমাদের বাড়ির বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুর করে।
সেখানে থাকা একটি দোকানে লুটপাট চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। আমাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় আমাদরেকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার পাশাপাশি বাড়িঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেবার মতো ভীতিকর সতর্কবার্তাও দেয়। এই ঘটনার পর থেকে আমার পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সেচ্ছাসেবক দলের মহানগর কমিটির সদস্য সৈকত পারভেজকে কল দেওয়া হলে তিনি ব্যস্ত আছেন। এ বিষয়ে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান।
অভিযুক্ত এমান আলী বলেন, ওই জমি পৈতৃক সূত্রে পাওয়া। ওখানে আমার ১৯ শতাংশ ও আমার ভাই আজিজের ১৯ শতাংশ আছে। ওই জমির দলিলও আছে আমার কাছে। এটা আমার রেকর্ডিং সম্পত্তি। তাদের সঙ্গে এ নিয়ে বেশ কয়েকবার বসা হয়েছে। কিন্তু তারা আমার জমি বুঝিয়ে দিচ্ছে না। সেদিন গিয়েছিলাম উল্টো তারা আমার উপর হামলা চালিয়েছে।
বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, আমি দুইদিন ট্রেনিংয়ে থানার বাইরে ছিলাম। তাদের অভিযোগ দেখতে হবে। এরপর তদন্ত করা হবে।#