নিখোঁজের ১৯ মাস পর সুমনের ৮৩ খন্ড হাড় উদ্ধার
নওগাঁর আত্রাইয়ে পুকুর হতে নিখোঁজের ১৯ মাস পর সুমন প্রামাণিকের (৩৯) ৮৩ খন্ড হাড় ও তার ব্যবহৃত স্যান্ডেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। সুমনকে হত্যার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে উপজেলার বড়কালিকাপুর গ্রামের আজিজুল হক খন্দকার এর ছেলে সাফিউল ইসলাম (২৬) কে আটক করা হয়েছে। আটককৃত সাফিউল সুমনকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন।
নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, জেলা পুলিশের দিকনির্দেশনা মোতাবেক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২২ জানুয়ারি ২০২৬ সাফিউল ইসলামকে আটক করে। আটকের পর সাফিউলকে থানায় অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সুমনকে তারা দুই ভাই মিলে সিমেন্টের খুটি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছে মর্মে স্বীকার করে।
তিনি আরও জানান, সাফিউলের দেওয়া তথ্য মতে ২৩ জানুয়ারি কয়সা গ্রামস্থ জনৈক রমজান আলীর পুকুরে পানি সেচ দিয়ে পুকুরের মধ্য হতে সুমনের ৮৩ খন্ড হাড় ও তার ব্যবহৃত স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়। হত্যার কারন হিসাবে সাফিউলের স্ত্রীকে সুমন মাঝে মধ্যে উত্তক্ত করতো বলে জানায়। এদিকে সাফিউলের সহযোগী তার বড়ভাই গত কয়েক মাস আগে আত্মহত্যা করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন ২০২৪ দিবাগত রাতে সুমন প্রাং বাড়ির বাহিয়ে গিয়ে আর ফিরে আসে না। সে বাড়িতে না ফিরলে বাড়ীর লোকজন অনেক খোজাখুজির পর গত ২২ জুন ২০২৪ তারিখে থানায় জিডি করেন। জিডির প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল হতে পুলিশ রক্তমাখা ৪ খন্ড সিমেন্টের খুটির টুকরো উদ্ধার করে। জব্দকৃত সিমেন্টের খুটির টুকরো ডিএনএ পরীক্ষার পর তার বাবা-মার সাথে মিলে গেলে গত ১৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আত্রাই থানায় ১৪৩/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৬৪/৩৪ ধারায় মামলা রজু করা হয়।