শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬

রাজশাহী-২ আসনে বিএনপির থেকে ৭.৩ শতাংশ বেশি ভোটার জামায়াতকে পছন্দ করেন: এনআরএফ-এর জরিপ

রাবি প্রতিবেদক ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:১৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
রাবি প্রতিবেদক ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:১৮ অপরাহ্ন
রাজশাহী-২ আসনে বিএনপির থেকে ৭.৩ শতাংশ বেশি ভোটার জামায়াতকে পছন্দ করেন: এনআরএফ-এর জরিপ

রাজশাহী-২ আসনে বিএনপির থেকে ৭.৩ শতাংশ বেশি ভোটার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে পছন্দ করেন। ন্যাশনাল রিসার্চ ফোরাম (এনআরএফ) কর্তৃক পরিচালিত একটি গবেষণা রিপোর্টে এমন তথ্য উঠে এসেছে।


বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীনস কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গবেষণা রিপোর্টের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন এনআরএফ-এর প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. জে এ.এম. সকিলুর রহমান ও সদস্য স্বপন কুমার রায়।


গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী, ভোটাররা কাকে ভোট দিবেন সরাসরি সেই প্রশ্ন করা হয়নি। প্রশ্ন ছিলো কোন দল দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারবে। এই প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির কথা বলেছে ২৫.৯ শতাংশ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র কথা বলেছে ৩৩.২ শতাংশ। অন্যান্য দলের কথা বলেছে ৪.৯ শতাংশ এবং এখনও সিদ্ধান্ত নেননি ৩৬ শতাংশ ভোটার। এই হিসেবে বিএনপির থেকে ৭.৩ শতাংশ বেশি ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে পছন্দ পছন্দ করছেন এই মুহূর্তে।


এছাড়া এই আসনে আগামী নির্বাচনে ৮৪.৫ শতাংশ ভোটার ভোট প্রদানে অংশগ্রহণ করবেন, অংশগ্রহণে অনিচ্ছুক ৩.১ শতাংশ এবং কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি ১২.৪ শতাংশ ভোটার। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চান ৬৭.৯ শতাংশ, বাস্তবায়ন চান না ৫.৬ শতাংশ এবং এখনো সিদ্ধান্ত নেননি ২৬.৫ শতাংশ ভোটার। নির্বাচনে পরিবেশ সুষ্ঠু থাকবে বলে মনে করেন ৮৫.৫ শতাংশ ভোটার, এই বিষয়ে নেতিবাচক উত্তর দিয়েছেন ১১.৭ শতাংশ এবং কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি ২.৮ শতাংশ ভোটার।


 জরিপে অংশগ্রহণকারীরা অগ্রাধিকার মূলকভাবে যে বিষয়গুলো চান তা হলো- অর্থনৈতিক উন্নয়ন চায় ১৩.২ শতাংশ, শিক্ষার উন্নতি চায় ১৫.৯ শতাংশ, দুর্নীতি প্রতিরোধ চায় ২৪.৬ শতাংশ, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা চায় ১৯.৩ এবং অন্যান্য বিষয়ে বলেছেন ২৭ শতাংশ। 


এনআরএফ-এর প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. জে এ.এ.ম সকিলুর রহমান বলেন, আমরা গত পাঁচই ডিসেম্বর একটা সার্ভে করেছি রাজশাহী-২ আসনকে নিয়ে। আমরা স্ট্রাটিফাইড র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং প্রসেসের মাধ্যমে ডাটা কালেকশন করেছি। আমাদের স্যাম্পল সাইজ হচ্ছে আটশো উননব্বই জন। প্রথমে রাজশাহী শহর দুই আসনের ত্রিশটা ওয়ার্ড, প্রত্যেকটা ওয়ার্ডের ফোল্ডার এবং যেখানে ফোল্ডার নেই সেখানে দেখা হয়েছে ভোট সেন্টার।


তিনি বলেন, প্রত্যেকটা ভোট সেন্টারের যে ভোটার লিস্ট আছে সেই লিস্ট অনুযায়ী সেখান থেকে আমরা তাদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে সেই ভোটারদের কাছে যেয়ে আমরা তাদের কাছ থেকে তথ্যগুলো নিয়েছি। সেই তথ্যের কয়েকটা মূল বিষয় হচ্ছে বয়স, তারপরে লিঙ্গ। বয়স একটা আঠাশ থেকে পঁয়ত্রিশ আর ছত্রিশ থেকে তার বেশি। ছত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ, ছত্রিশ দশমিক পাঁচ শতাংশ আর ছত্রিশ থেকে তার বেশি তেষট্টি দশমিক পাঁচ।


তিনি আরও বলেন, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ছিল ৫১.৬ শতাংশ এবং নারীর সংখ্যা ছিল ৪৮.৪ শতাংশ। কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী নিরক্ষর ছিল ২৭.৮ শতাংশ। প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত ছিল ৩৩ শতাংশ, মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষিত ছিল ১৪.৮ শতাংশ। উচ্চ মাধ্যমিক এবং স্নাতক ছিল ২০ শতাংশ এবং উত্তর দেয়নি ৪.৪ শতাংশ।