শিবগঞ্জ ও বাঘায় গাছে গাছে প্রচুর আমের মুকুল, ভাল ফলনের আশায় চাষিরা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ ও রাজশাহীর বাঘায় উপজেলায় গাছে গাছে প্রচুর আমের মুকুল। তাই এবার আমের ভাল ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন চাষিরা। তারা শুধু বুক ভরা আশা নিয়ে বাগান পরিচর্চার কাছে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জানা গেছে, শিবগঞ্জে এবার ১৯ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে ২৪ লাখ ৪২ হাজার ৫০০টি বিভিন্ন জাতের আম গাছ ৮৫% মুকুল এসেছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর বলছেন, আবহাওযা অনুকূল ও অন ইয়ার হওযার কারণে ভাল ফলন পাওযার সম্ভাবনা রয়েছে। মনাকষা ইউনিয়নের পারচৌকা গ্রামের আম চাষী আব্দুল হামিদ জানান, এ বছরে তার ৫০ বিঘা জমির আম বাগান ক্রয় করা আছে। সবগুলো গাছেই প্রচুর মুকুল এসেছে। তবে কয়েকদিনের কুশায় ও হালকা বৃষ্টিতে প্রায় ১৫% মুকুল নষ্ট হয়ে গেছে। তবে এখনো প্রায় ৭০% মুকুল টিকে আছে। মুকুল আসার পর থেকেই পরিচর্চা অব্যাহত রেখেছি। আশা করি ভাল ফলন পাবো।
একই কথা জানালেন মনাকষা ইউনিয়নের ৮০ বিঘা বাগানের মালিক বাবুল হোসেন , ২৫ বিঘা বাগানের মালিক গোলাম মোস্তফা , ৫০ বিঘা বাগানের মালিক সাদ্দাম হোসেন ও প্রায় ১০০ বিঘিা বাগানের মালিক জেম আলি, ৩০ বিঘা বাগানের মালিক দূর্লভপুর ইউনিয়নের জগনাথপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম, ৫৬ বিঘা বাগানের মালিক শিবগঞ্জ পৌরসভার রুবেল আলিসহ আরো অনেকেই জানান এবার মুকুল ভাল এসেছে,ভাল ফলনের আশা করছি।
তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিভিন্ন কীটনাশক কোম্পাীর লোকদের সাথে পরামর্শ করে বাগান স্প্রে করা সহ বিভিন্ন ভাবে বাগানের পরিচর্চা করছি। তারা বলেন, যে সমস্ত গাছে আগেই মুুকুল এসেছিল, সে সমস্ত গাছের মুকুল কয়েকদিনের প্রতিকূল আবহাওযায় কিছুটা নষ্ট হয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার নয়ন মিঞা জানান. আমের জন্য বিখ্যাত শিবগঞ্জে এবার ১৯ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে ছোট-বড় ও মাঝারি মিলে ২৪ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ আম গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। তার মধ্যে ফজলী ৪১০০ হেক্টর ,আশ্বিনা ৫৪৫০ হেক্টর,ল্যাংড়া ১৬৪০ হেক্টর, গোপালভোগ ৩০০ হেক্টর, খিরসাপাতা ২১৮০ হেক্টর, বোম্বাই ৪৫০ হেক্টর , লক্ষণভোগ ৭০০ হেক্টর, আম্রপলি ৫৫০ হেক্টর, মল্লিকা এক হেক্টর, কিউজাই এক হেক্টর, চিয়াংমাই এক হেক্টর, কিং চাকাপাত এক হেক্টর, নামডকমাই ০.৫ হেক্টর, রেড পারমার ০.৫ হেক্টর, কল্যাণভোগ ৫ হেক্টর, বারি ১১ এক হেক্টর, বারি ৪, ১৮০ হেক্টর, রাণী পছন্দ এক হেক্টর, হাড়িভাংগা ৫ হেক্টর, গৌড়মতি ৮০ হেক্টর, কাটিমন ২২৪০ হেক্টর, ম্যাংগো বানানো ১৩০ হেক্টর, স্থানীয় গুঠি ১০৬৯ হেক্টর, ও উন্নত গুঠি ৭৯০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল ও আমের জন্য অন ইয়ার হওয়ায় ভাল ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের আম বাগানে আম চাষিদেরকে পরামর্শ দেয়ার জন্য ও বাগান পরিদর্শনের জন্য উপসহকারী কৃষি অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে রাজশাহীর বাঘায় মুকুলে ছেয়ে গেছে আম গাছ। উপজেলা জুড়ে সোভা পাচ্ছে চোখ জুড়ানো আম গাছের মুকুল। উপজেলার আম গাছের নিচে দিয়ে গেলে মুকুলের গন্ধে মন ভরে উঠছে। গাছে মুকুলে দেখে চাষীদের মন খুশিতে ভরে উঠেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আমের বাম্পার ফলন হবে।
আড়ানীর আম উৎপাদনকারী শফিকুল ইসলাম বলেন, গাছে যে পরিমান মুকুল এসেছে, এর ২৫ ভাগ টিকে থাকলে গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়বে। প্রতিটি গাছে প্রচুর পরিমান মুকুল এসেছে।
গোচর গ্রামের মজবুল হোসেন বলেন, এলাকার প্রতিটি মানুষের আম গাছ রয়েছে। যে ব্যক্তি অন্যের জমিতে বসবাস করে সেও বাড়ির আঙ্গিনায় একটি গাছ লাগিয়েছেন। সে সব গাছেও প্রচুর পরিমানে মকুল এসেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লা সুলতান বলেন, অল্প সময়ে মধ্যে আমের ফলন পাওয়া যায়। মাত্র ২-৩ বছরের মধ্যে গাছে আম আসে শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে আম পাওয়া যায়।
এ উপজেলার মাটি আম চাষের জন্য খুব উপযোগী। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে আম বাগান থেকে আশানুরূপ ফলন হবে।
মে-জুলাই তিন মাস গাছে আম পাওয়া যায়। গাছে যে পরিমান মুকুল এসেছে, আবহাওয়া ভাল থাকায় উৎপাদন ভাল হবে। উপজেলায় ৮ হাজার ৮৯৬ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এদিকে ১০ বছর থেকে আম বিশ্বের ১০টি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। এবারও রপ্তানি করা হবে।