বৃহস্পতিবার, মে ০৭, ২০২৬

পাকশীতে নদীর বর্জ্য পরিষ্কার করে প্রশংসার পর এবার সমালোচনার মুখে ছাত্রদল

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ০১ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ০১ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২৩ অপরাহ্ন
পাকশীতে নদীর বর্জ্য পরিষ্কার করে প্রশংসার পর এবার সমালোচনার মুখে ছাত্রদল

পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী পদ্মা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকদের ফেলে যাওয়া বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য ও অপচনশীল নানা দ্রব্যাদি নদীচরে এখানে সেখানে পড়ে ছিল। এতে নদীর পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। ইদের ছুটিতে সেই বর্জ্য পরিষ্কার করার উদ্যোগ গ্রহণ করে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমানের একদল নেতাকর্মী। সেসময় প্রশংসিতও হয়েছিলেন তারা। কিন্তু নদী থেকে সংগ্রহ করা সেই বর্জ্য কুড়িয়ে নদীর পাড়েই স্তুপ করে ফেলে রাখায় সেসব বর্জ্য বাতাসে ফের নদীতেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ায় সমালোচনা ও ক্ষোভের মুখে পড়েছেন তারা।


বুধবার (০১ এপ্রিল) খবর পেয়ে নদীপাড়ে গিয়ে এ ঘটনার সত্যতা মেলে। দেখা যায়, পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকার আশপাশের বেশ কিছু জায়গা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রয়েছে। কিন্তু অদূরেই সেসব আবর্জনা এক স্থানে স্তুপাকারে জমা রয়েছে। এ থেকে বাতাসে তা ছড়িয়েও পড়ছে। স্থানীয় অস্থায়ী দোকানীরা জানান, পর্যটকদের ফেলে যাওয়া এই আবর্জনা পরিষ্কার করেছে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক সদস্যরা।


উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় কোন বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় দর্শনার্থীরা পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালনশাহ্ সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পাকশী রেলওয়ে স্টেশনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিনিয়তই পরিবার প্রিয়জন নিয়ে এখানে বেড়াতে আসেন দর্শনার্থীরা। তাদের ফেলে দেওয়া বর্জ্য ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মীরা কুড়িয়ে পরিস্কার করার ঘটনা মূহূর্তেই নজর কাড়ে পর্যটকদের। কিন্তু নদী পাড়ের সেই আবর্জনা দুরে না নিয়ে কিংবা পুড়িয়ে না ফেলে সেখানেই স্তুপ করে রাখায় পরিবেশ দুষন হওয়ায় নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


পদ্মায় বেড়াতে আসা শিক্ষার্থী দম্পতি আজিজুর রহমান ও রেহেনা খাতুনসহ আরো কয়েকজন বলেন, নদী পাড়ের ময়লা কুড়িয়ে তা এখানে স্তুপ করে না রেখে সেগুলো যদি পুড়িয়ে দিত তাহলে ভাল হতো। 


পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মো. ইমন হোসেন বলেন, এই এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কখনই কেউ ভাবেনি। ছাত্রদলের এই পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগে আমরা ভীষণ খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু পরক্ষণেই আমাদের ভীষণ খারাপ লেগেছে। কেননা তারা সামান্য কিছু অংশের আবর্জনা কুড়িয়ে সেগুলো পাশেই স্তুপ করে রেখে চলে গেছে। এতে করে এ এলাকার পরিবেশ আরও নোংরা ও দূষিত হয়েছে। 


ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মাহমুদুল ইসলাম শাওন বলেন, ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা পদ্মানদী পাড়ে ময়লার যে স্তুপ করে রেখে চলে গেছে তারা কাজটা ঠিক করেনি। ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম অনিক বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে পরিবেশের ভালো করতে গিযে যারা খারাপ করেছে তারা আসলে ঠিক করেনি। আমরা উপজেলা যুবদলের পক্ষ থেকে স্তুপকৃত ময়লার ভাগাড় অপসারণের চেষ্টা করব।


উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমরুল কায়েস সুমন বলেন, ঈশ্বরদীর এই সুন্দর পরিবেশ সুন্দর ও স্বাভাবিক রাখতে সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। ময়লা নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় আমরা নদী থেকে কুড়ানো আবর্জনা পাশেই একটি স্তুপ করে রেখে এসেছি। দর্শনার্থীদের ময়লা ফেলার জন্য একটি ডাস্টবিনও সেখানে স্থাপন করেছি।


প্রসঙ্গত: ইদুল ফিতরের ছুটির মধ্যে ২ দিনব্যপী পাকশীস্থ পদ্মা নদীর পাড় দূষণ মুক্ত রাখতে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমরুল কায়েস সুমনের তত্বাবধানে উপজেলা ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীরা আবর্জনা অপসারণের উদ্যোগ নেন।