ক্ষমতার দাপটে জমি দখলের চেষ্টা, নিরাপত্তা চাইলেন ভুক্তভোগী পরিবার
রাজশাহী নগরীর চৌদ্দপাই বিহাস মোড় এলাকায় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিজেদের নিরাপত্তা চেয়েছেন এক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজা ইয়াসমিন খুশি। তিনি অভিযোগ করেন, তাদের বৈধভাবে ক্রয় করা জমি পরিকল্পিতভাবে দখলের চেষ্টা করছে একটি প্রভাবশালী মহল। এ ঘটনায় উজির, নাজির, রজব আলী, মিলন আলী ও কাউসার আলীর নাম উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কাটাখালী থানাধীন শ্যামপুর নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
লিখিত বক্তব্যে খাদিজা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করে তাদের বসতভিটা ও বাড়ির সামনে থাকা মার্কেট জোরপূর্বক দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। গত ২৬ মার্চ সকালে শতাধিক লোক নিয়ে তারা বেআইনিভাবে জমিতে প্রবেশ করেন এবং পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তা সাইনবোর্ড দিয়ে বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে পরিবারের সদস্যদের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তাদের মৌলিক অধিকারও ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, তাঁরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। প্রাণনাশের হুমকির কারণে ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন, এমনকি নিজেদের বাসাতেও নিরাপদ বোধ করছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের ভূমিকায়ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন খাদিজা ইয়াসমিন খুশি। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও একাধিকবার মতিহার থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পাননি। বরং দখলদারদের পক্ষ নিয়ে কথা বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন আচরণ শুধু দায়িত্বহীনতাই নয়, বরং অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল।
সংবাদ সম্মেলন থেকে কয়েকটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছেÑসুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দখলচেষ্টার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়া, দখলদারদের উচ্ছেদ করে জমি, বাড়ি ও মার্কেটের দখল ফিরিয়ে দেওয়া, ভুয়া দলিল ও প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি দখলের চেষ্টাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বে অবহেলা ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া। ভুক্তভোগীরা বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এর দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে। ন্যায্য অধিকার আদায়ে তাঁরা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, জমি নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। যেহেতু এটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, তাই উভয় পক্ষকে আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার কথা বলা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত উজির ও কাউসার আলীর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।