বুধবার, মে ০৬, ২০২৬

নগরীতে দুই দিনব্যাপী লিটারারি ফেস্টিভ্যাল

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৬ অপরাহ্ন
নগরীতে দুই দিনব্যাপী লিটারারি ফেস্টিভ্যাল

সাহিত্য, শিল্প ও মানবিকতার মেলবন্ধনে নগরীতে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী লিটারারি ফেস্টিভ্যাল। পদ্মা নদীর তীরঘেঁষা নগরের বড়কুঠি মুক্তমঞ্চে ও পদ্মাগার্ডেন সংলগ্ন উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করেছে রাজশাহী রাইটার্স কালেকটিভ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় এই আয়োজনের পর্দা ওঠে। পদ্মাপারের এই উৎসব চলবে শনিবার (৪ এপ্রিল) পর্যন্ত।


সকালে ‘যুদ্ধ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মানবিক কল্পনা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উৎসবের সূচনা হয় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। সংগীত পরিবেশন করেন সন্নিধি সঙ্গীত নিকেতনের শিল্পীরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কবি রফিক জিবরান। কবি ও সঙ্গীতশিল্পী কফিল আহমেদ তার পরিবেশনা ও বক্তব্যে তুলে ধরেন শিল্পের শক্তি ও মানবিক অবস্থানের গুরুত্ব।


সংহতি বক্তব্যে একে একে উঠে আসে সময়ের কঠিন বাস্তবতা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজী শুসমিন আফসানা, কবি মোস্তাক রহমান এবং আইনজীবী মুরাদ মোর্শেদ তাদের বক্তব্যে যুদ্ধ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মানুষের ঐক্যবদ্ধ, সুসংগঠিত ও নৈতিক প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে তুলে ধরেন।


তাদের ভাষায়, আধিপত্যবাদী শক্তির ধারাবাহিক সহিংসতা, দখল ও শোষণের বিরুদ্ধে নীরব থাকা মানে মানবতার পক্ষ ত্যাগ করা। এই প্রেক্ষাপটে লেখক, শিল্পী ও সচেতন নাগরিকদের আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। পাশাপাশি নিপীড়িত মানুষের সংগ্রামের সঙ্গে সক্রিয় সংহতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তারা স্মরণ করিয়ে দেন।


বিশ্বের নানা প্রান্তে চলমান সংঘাত ও মানবিক বিপর্যয়ের কথাও উঠে আসে আলোচনায়। গাজা, ইরান, ভেনিজুয়েলা ও ইউক্রেনের মানুষের প্রতি গভীর সংহতি জানিয়ে বক্তারা বলেন, এইসব অঞ্চলের রক্তাক্ত বাস্তবতা শুধু ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি আমাদের সম্মিলিত নৈতিক দায়বদ্ধতার অংশ।


উৎসবের প্রথম পর্বে রাজশাহী আবৃত্তি পরিষদের অংশগ্রহণে কবিতাপাঠ দর্শকদের আবেগে ভাসায়। পাশাপাশি যুদ্ধ ও আগ্রাসনবিরোধী চিত্রাঙ্কনে অংশ নেয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা, যাদের রং-তুলিতে ফুটে ওঠে প্রতিবাদ, বেদনা ও আশার প্রতিচ্ছবি। এছাড়া প্রাঙ্গনজুড়ে লিটল ম্যাগাজিন এবং বই ও পোস্টার প্রদর্শনী তৈরি করে এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আবহ।


উৎসবের আকর্ষণ আরও বাড়িয়েছে যুদ্ধবিরোধী ডকুমেন্টারি ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, গান, গীতিনাট্য এবং গণনাটকের পরিবেশনা। ল্যাডলী মোহন মৈত্র ও আলো রানী মৈত্রের গীতিনাট্য পরিবেশনা এবং ‘মানবতার আদালত: সাম্রাজ্যবাদের অপরাধসমূহের বিচার’ শীর্ষক গণনাটক দর্শকদের ভাবনার জগতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই প্রত্যাশা আয়োজকদের।


অনুষ্ঠানের প্রথম দিন পুরো আয়োজনের সঞ্চালনায় ছিলেন রাজশাহী রাইটার্স কালেকটিভের সংগঠক আতিকুর রহমান আতিক। উৎসবের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সংগঠক নাদিম সিনা।