স্কুলে চলন্ত ফ্যান পড়ে আহত শিশু শিক্ষার্থী
রাজশাহীর পবা উপজেলার বায়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রের মাথায় চলন্ত ফ্যান খুলে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় শিশুটিকে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে না নেওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক।
বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল পৌনে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। প্রথম শ্রেণির ‘ক’ শাখার ছাত্র সিয়াম ইসলামের চোখের ওপরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে চারটি সেলাই লেগেছে বলে জানিয়ে তার অভিভাবকরা। দুর্ঘটনার পর শ্রেণিকক্ষে থাকা অন্য শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ছোটাছুটি শুরু হয়। পড়ে তা স্কুল চলাকালীন শিশুটির মা সেলিনা আক্তার বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ছুটে গিয়ে ছেলেকে রক্তভেজা অবস্থায় দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শিক্ষকরা শিশুটিকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বসিয়ে রাখলে ক্ষুব্ধ হয়ে মা নিজেই ছেলেকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক জানিয়েছেন, অল্পের জন্য শিশুটি বড় কোনো দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলেও তার চোখের নিচে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া নাক ও গালে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
শিশুটির বাবা মোকলেছুর রহমান বলেন, ঘটনার পর স্ত্রী ফোন করলে আমি তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ছুটে যাই। চিকিৎসা শেষে ছেলেকে বাসায় নিয়ে আসি। বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেলেও ঘটনার কারণ জানতে আমি স্কুলে দু’বার গিয়েছিলাম। কিন্তু প্রধান শিক্ষককে না পেয়ে ফিরে এসেছি।
শিশুটির মা সেলিনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, সকাল ৯টায় আমি বাচ্চাকে ক্লাসে দিয়ে বাইরে বসেছিলাম। এত বড় দুর্ঘটনার পর তারা বাচ্চাকে সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে রুমের মধ্যে বসিয়ে রাখে। পরবর্তীতে স্কুল থেকে কেউ একবারও ফোন দিয়ে খোঁজ নেয়নি বা বাসায় এসে বাচ্চাটিকে একনজর দেখেও যায়নি।
বায়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খালেদা বানু মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, আপনি অচেনা মানুষ। সাংবাদিক কিনা তাও জানি না। তাই এ বিষয়ে কথা বলতে পারবো না। যদি কথা বলতে হয় তাহলে আগামীকাল (শনিবার) স্কুলে আসেন।
পবা উপজেলা শিক্ষা অফিসার জোবায়দা রওশন জাহান বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। প্রধান শিক্ষককে বাচ্চাটির পরিবারের খোঁজ খবর নিতে বলেছি। তারা বলে খোঁজখবরও নিয়েছে বলে জানিয়েছে। তারপরও আমি খোঁজখবর নিচ্ছি।