বুধবার, মে ০৬, ২০২৬
মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড

চৈত্রে দেখা মিলছে মাঝারি তাপপ্রবাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ১০:২৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ১০:২৫ অপরাহ্ন
চৈত্রে দেখা মিলছে মাঝারি তাপপ্রবাহ
সংগৃহীত ছবি

পঞ্জিকা অনুযায়ী চলছে বসন্তকালের চৈত্র মাস। আর এই মাসেই দেখা মিলল মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। যা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত কমবে না তাপমাত্রা।  


শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুর তিনটায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এর আগে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা বেড়েছে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।


রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে কালবৈশাখীর প্রভাবে বৃষ্টি হওয়াতে তাপমাত্রা কমে এসেছিল। তবে কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে। 


রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ রহিদুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। শুক্রবার তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি বেড়ে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬-৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি তাপপ্রবাহ, ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর বেশি হলে তাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। সেই হিসাবে রাজশাহীতে আজ মাঝারি তাপপ্রবাহ চলছে।


এদিকে কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বাড়লেও হাসপাতালে গরমজনিত রোগী এখনো বাড়েনি। এ ছাড়া হিটস্ট্রোকের রোগীও এখনো আসেননি জানিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালে একটি হিটস্ট্রোক কর্নার চালু রয়েছে। সেখানে গরমজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত। তবে এখনো এ ধরনের রোগী আসেননি। গরমে সাধারণত শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া জাতীয় রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। এবার এখনো এমন রোগী স্বাভাবিক আছেন। গরম অব্যাহত থাকলে তা বাড়তে পারে। হাসপাতালে সে প্রস্তুতি নেওয়া আছে।


গরমে করণীয় সম্পর্কে এই চিকিৎসক বলেন, বাইরের ভাজাপোড়া বা খোলা শরবত এড়িয়ে চলতে হবে। ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে, ছাতা ব্যবহার করতে হবে এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলতে হবে। প্রচুর তরল পান করতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের বেশি বেশি পানি পান করাতে হবে এবং সুষম খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে।