মান্দায় বসতবাড়িতে ঢুকে বৃদ্ধ দম্পতিকে মারধরের অভিযোগ
নওগাঁর মান্দা উপজেলার বাদলঘাটা গ্রামে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে এক বৃদ্ধ দম্পতিকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালের এই ঘটনায় আহত দম্পত্তিকে উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা হলেন, উপজেলার মান্দা সদর ইউনিয়নের বাদলঘাটা গ্রামের শিখিল সরদার (৬০) ও তাঁর স্ত্রী কবিতা সরকার (৫৫)। অভিযুক্তরা একই গ্রামের বাসিন্দা বিদ্যুৎ হোসেন প্রামাণিক, তার স্ত্রী হাজেরা বেগম ও বিদ্যুৎ হোসেনের মা বিলকিস বেগম।
ভুক্তভোগী শিখিল সরকার বলেন, বসতবাড়ির পাশে খতিয়ানভূক্ত একটি পুকুর ভরাট হয়ে যায়। পুকুরটি সংস্কারের জন্য জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় আবেদন করা হলে বিভিন্ন দপ্তর একাধিকবার তদন্ত করে। কাগজপত্র সঠিক থাকায় শর্তসাপেক্ষে পুকুরটি সংস্কারের অনুমতি প্রদান করেন মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের অনুমতিতে শুক্রবার সকালে খননযন্ত্র দিয়ে পাড় বাঁধার কাজ শুরু করা হয়। এ সময় প্রতিবেশী বিদ্যুৎ হোসেন ও তার স্বজনেরা সেখানে এসে খনন কাজে বাধা দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে কাজের লোক রিপন আলী ও ইমরান হোসেনকে মারধর করেন তারা।
‘এক পর্যায়ে তারা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে পুকুর খনন করার জন্য আমার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার চলাকালে তারা আমাকেসহ স্ত্রী কবিতা সরকারকে মারধর করেন। সংবাদ পেয়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বিদ্যুৎসহ তাদের লোকজন পালিয়ে যায়।
এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, ইতোপূর্বে পুকুরটি সংস্কারের কথা বলে শিখিল সরকার আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। সেই টাকা না দিয়ে নিজেই পুকুর খননের চেষ্টা করছেন। তাকে মারধরের বিষয়টি সঠিক নয়।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রেেয়াজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।