রাজশাহীতে মিথানল বিষক্রিয়া মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান
দেশে মিথানল বিষক্রিয়ার ঘটনা তুলনামূলক কম হলেও এর সঠিক চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও প্রস্তুত ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তাঁরা বলেছেন, ভেজাল মদ পান করে মিথানল বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করছেন, আবার কেউ কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রান্তিক পর্যায়ে প্রস্তুতি এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
সেই লক্ষ্যে শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে ‘মিথানল বিষক্রিয়া ও অ্যালকোহল সম্পর্কিত বিষক্রিয়া মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলেছেন বক্তারা। টক্সিকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মশালায় বাংলাদেশে মিথানল বিষক্রিয়া প্রশমন, এর সামাজিক মাত্রা, চিকিৎসাগত প্রতিক্রিয়া এবং পরিচর্যা উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় জানানো হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অধীনে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মিথানল ও অ্যালকোহল বিষক্রিয়ার রোগীদের নিয়ে একটি গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩৫ জন রোগীকে এ গবেষণার আওতায় আনা হয়েছে। তবে বক্তাদের মতে, বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। লোকলজ্জা, সামাজিক সংকোচ এবং আইনি বিধিনিষেধের কারণে এ ধরনের রোগীর প্রকৃত তথ্য অনেক সময় সামনে আসে না।
এসময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ বলেন,“পুরো জনগোষ্ঠীর তুলনায় মদ্যপানের হার খুব বেশি নয়, আর মিথানল বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও তুলনামূলক কম। তারপরও এ বিষক্রিয়ার সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি জানা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন,“প্রান্তিক পর্যায়ে, বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে, এই ধরনের বিষক্রিয়ার ব্যবস্থাপনা সবসময় সম্ভব হয় না। নানা কারণে এ ধরনের রোগীরা সামনে আসতে চান না। আবার যারা মদে ভেজাল করে, তারাও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। আক্রান্তরা সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পেলে সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।”
মিথানল বিষক্রিয়ার ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফজলে রাব্বি চৌধুরী। এ বিষয়ে মতামত দেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. খন্দকার মো. ফয়সাল আলম এবং মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবু শাহীন। সেমিনারে আরও প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম ও মিস আলিফা আহমেদ।
কর্মশালায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল-ইসলাম, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. জহিরুল হক, রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রাজশাহীর সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসানসহ তিন জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, মিথানল বিষক্রিয়া মোকাবিলায় শুধু বড় হাসপাতাল নয়, উপজেলা পর্যায়েও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রস্তুতি জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব। ভেজাল মদ উৎপাদন ও বিপণনের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারিরও আহ্বান জানান তাঁরা।