শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬
বিপাকে জনজীবন ও কৃষি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বিদ্যুতের ঘাটতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০১ অপরাহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বিদ্যুতের ঘাটতি

তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে তীব্র আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ সংকট। চাহিদার তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকায় দিন-রাত ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের মুখে পড়ছেন শহর ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করে বিভিন্ন  উপজেলার গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও বেশি নাজুক। এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি কৃষি, ব্যবসা ও জনস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।


জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও নেসকোর তথ্য অনুযায়ী, চলমান গরমে হঠাৎ করে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ৩১ থেকে ৩২ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ২৫ থেকে ২৬ মেগাওয়াট। ফলে ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। আর গ্রামাঞ্চলে কৃষি সেচের কারণে চাহিদা আরও বেশি হওয়ায় সেখানে ঘাটতির প্রভাব আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।


নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কৃষক মাসুদ রানা বলেন, এখন বোরো ধানের গুরুত্বপূর্ণ সময়। জমিতে নিয়মিত পানি না দিলে ফলন কমে যাবে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চালানো যাচ্ছে না। কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ আসে আর যায়, এভাবে চাষাবাদ চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।


কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সময়ে সেচের ব্যাঘাত হলে উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, যা জেলার খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।


শহরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনে কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। পৌরসভার আরামবাগ এলাকার বাসিন্দা শান্ত সরকার  বলেন, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চার-পাঁচবার বিদ্যুৎ চলে যায়। ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হওয়ার ভয় আছে। গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। 


ক্লাব সুপার মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান  জানান, “বিদ্যুৎ না থাকায় দোকান ঠিকমতো চালানো যায় না। দিনে গরমের কারণে ক্রেতা কম আসে, আবার বিদ্যুৎ না থাকলে তারা বেশিক্ষণ দোকানে থাকতে চায় না।”


এদিকে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলিউল আজিম বলেন, তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।


অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান জানান, এপ্রিলের শুরু থেকেই বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বোরো সেচের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে আমরা চাহিদার তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন। গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও অনলাইন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।


স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো এবং নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী লোডশেডিং পরিচালনা করা জরুরি, যাতে মানুষ আগাম প্রস্তুতি নিতে পারে। কৃষকদের জন্য বিকল্প সেচব্যবস্থা নিশ্চিত করারও দাবি উঠেছে।


বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে চাহিদা আরও বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


উল্লেখ্য  চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিদ্যুৎ সংকট শুধু একটি মৌসুমি সমস্যা নয়, বরং তা ধীরে ধীরে অর্থনীতি, কৃষি ও জনজীবনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে, এমনই আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।