শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

ইসরায়েল ও লেবাননের ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু

সোনার দেশ ডেস্ক ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১২:২৪ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১২:২৪ অপরাহ্ন
ইসরায়েল ও লেবাননের ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু
দক্ষিণ লেবাননের সিডনে নিজদের বাড়িতে ফিরে আসার পর জনতার উল্লাস। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েল ও লেবাননের স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়া শুরু হয়েছে।


শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ প্রাথমিকভাবে ১০ দিন। তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এর সময়সীমা বাড়তে পারে।


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতির ফলে লেবাননের সঙ্গে একটি ‘ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি’ করার সুযোগ তৈরি হবে।


বিবিসি জানিয়েছে, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে সম্মত হয়েছে। তবে তারা দাবি করেছে, এই যুদ্ধবিরতিতে অবশ্যই ‘লেবাননের ভূখণ্ডজুড়ে হামলা পুরোপুরি থামাতে হবে’ আর ‘ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা রাখা যাবে না’।


নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ১০ কিলোমিটার ভেতর পর্যন্ত ত্রা কথিত তথাকথিত ‘নিরাপত্তা জোনে’ অবস্থান করবে। কিন্তু এটি ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার দাবি করা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধ সিদ্ধান্ত।


রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যারাত গড়িয়ে মধ্যরাতে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরপরই লেবাননের রাজধানী বৈরুতের কিছু অংশজুড়ে উদযাপন শুরু হয়ে যায়, এ সময় গুলির শব্দ শোনো যেতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রায় আধ ঘণ্টা পর উদযাপনের অংশ হিসেবে রকেট ছোড়া হয়।


কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সহিংসতা থামলেও পরিস্থিতি ভঙ্গুর অবস্থায়ই আছে।


শুক্রবার ভোরে লেবাননি সেনাবাহিনী জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরই তা লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল, তারা বিরতি দিয়ে দিয়ে দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি গ্রামে গোলাবর্ষণ করেছে।


এ অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে তারা জানিয়েছিল, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও তাদের বাহিনীগুলো দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন থাকবে। সামাজিম মাধ্যম এক্স এ ইসরায়েলি বাহিনীর আরবিভাষী মুখপাত্র আভিচাই আদরাই দাবি করেছেন, ওই অঞ্চলে হিজবুল্লাহর ‘জঙ্গি তৎপরতা’ অব্যাহত থাকার প্রতিক্রিয়ায় সেখানে তাদের বাহিনী রেখে দেওয়া হয়েছে।


রয়টার্স জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ এক দীর্ঘ বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার দিনভর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছে। তাতে দেখা যায়, তারা স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সর্বশেষ হামলা চালিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক ১০ মিনিট আগে।


পরে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে করা এক পোস্টে হিজবুল্লাকে যুদ্ধবিরতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানান।


তিনি বলেন, “আমার আশা এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টিতে হিজবুল্লাহ সুন্দর ও ভালো কাজ করবে। যদি তারা তা করে তবে সেটি তাদের জন্য একটি দারুণ মুহূর্ত হবে। আর কোনো হত্যা নয়। অবশেষে শান্তি চাই!”


মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতে লেবানন সরকারকে অবশ্যই ‘অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ’ নিতে হবে। লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় প্রতিরক্ষার ‘একচেটিয়া দায়িত্ব’ লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনীর।


যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানায়, পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ৩৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এগুলোর মধ্যে ছিল রকেট লঞ্চার, সদরদপ্তর ও হিজবুল্লাহর সদস্যরা।


ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইসরায়েল ও লেবাননের নেতাদের হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ