বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬

‘গুপ্ত’ নিয়ে সংসদে হইচই

সোনার দেশ ডেস্ক ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১০:২৮ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১০:২৮ অপরাহ্ন
‘গুপ্ত’ নিয়ে সংসদে হইচই
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কথা বলছেন সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা। ছবি: সংগৃহীত

‘গুপ্ত’ লেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। শেষ পর্যন্ত ‘গুপ্ত’ কথাটি গিয়ে ঠেকেছে জাতীয় সংসদেও। বিষয়টি নিয়ে সংসদে উত্তেজনাও দেখা গেছে, হয়েছে হইচইও।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৯তম দিন বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকালে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা বলেন, “শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সদ্যজাত সরকার কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু, অত্যন্ত দুর্ভাগ্য যে, আমাদের এই সংসদের বিরোধী দলের ভাইয়েরা সংসদের ভেতরে এবং বাইরে এই সরকারকে নাজেহাল করার জন্য যে চক্রান্ত চালাচ্ছে, যে চক্রান্তের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”


রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় দাঁড়িয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, “৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধকে তারা মেনে নিতে পারে নাই। যারা ৭১ সালের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারে না, তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন চাইতে পারে না। ৭১ সালের জন্ম হওয়া বাংলাদেশকে তারা মেনে নিতে পারে নাই বলে আজকে সদ্যজাত সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে।”


স্পিকারে উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনি শুনেছেন, চট্টগ্রামে গতকাল সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর হামলা করেছে কারা? শিবির। কী অপরাধ ছিল ছাত্রদলের? ছাত্রদল শুধু বলেছে, গুপ্ত। ছাত্রদল লিখেছে গুপ্ত, সেই জন্যই তারা গুপ্ত শব্দকে উল্লেখ করে ছাত্রদলের ওপর হামলা করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর আঘাত করেছে। আজকে আমাদের বিরোধী দলের ভাইয়েরা ক্ষেপে উঠেছেন, এই সংসদে গণতান্ত্রিকভাবে কথা বলার অধিকার দিতে চায় না। চট্টগ্রামের ছাত্রদল কী কথা বলেছে, গুপ্ত বলেছে। এই সংসদে আমরা নির্বাচিত হয়ে আসছি কথা বলার জন্য। বিরোধী দলের ভাইয়েরা আজকে কণ্ঠ চিপে ধরতে চায় ফ্যাসিস্টের মত।”


আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞা বলেন, “আমি বলতে চাই, আজকে সংসদে আমাদের সম্মানিত বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যে আচরণ দেখাচ্ছে, এতে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশে আগামী দিনে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি তারা করতে দেবে না, এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে। বিরোধী দলকে আমি এটাও বলে দিতে চাই— আমাদেরকে যারা ভোট দিয়েছে তারা আঙুল চুষবে না, বসে থাকবে না। তারা প্রতিবাদ করবে, আমাদের ভোটাররা তাকিয়ে থাকবে না। অতএব, আমি তাদেরকে সবিনয়ে অনুরোধ করবো, সরকারকে সাহায্য করুন।”


এ সময় স্পিকার বলেন, “রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন দলের বিভিন্ন মতাদর্শ থাকতে পারে, তাদের কথাবার্তার সবাই সবটাই পছন্দ হবে এমন কোনও বিষয় নয়। কিন্তু, অনুগ্রহ করে শুনুন, আমার কথাটি শুনুন। এখন আপনাদের একজন বক্তাকে আমি দিচ্ছি। উনি (বিরোধী দলীয় নেতা) যা যা বলেছে প্রয়োজন হলে তারা আপনারা জবাব দিতে পারবেন। বক্তব্যের মাধ্যমে জবাব দেন। একজন বক্তাকে বক্তব্যের সময় অনুগ্রহ করে ডিস্টার্ব করবেন না।”


স্পিকার বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল বারী সর্দারকে কথা বলার জন্য আহ্বান জানালে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান উঠে দাঁড়ান। তখন স্পিকার বলেন, “বিরোধী দলের নেতা বলেন। কিন্তু এই বক্তব্যের মাধ্যমেই জবাব দিবেন, এটাই আমরা আশা করি। কাউকে ডিস্টার্ব করবেন না।”


শফিকুর রহমান বলেন, “প্রথমে আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এখানে যে অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে এটা এক্সপ্যাঞ্জ করা হোক। একজন সংসদ সদস্য সংসদের ভিতরে দাঁড়িয়ে যে হুমকির ভাষায় কথা বললেন, আমরা এতে আঘাত পেয়েছি এবং আমরা আমাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছি। জনগণ বসে থাকবে না মানে কী? তিনি কি উসকাইয়া দিচ্ছেন জনগণকে? বিশৃঙ্খলার দিকে? এগুলা সংসদীয় আচরণ না।”


এ সময় স্পিকার বলেন, “আমরা পরীক্ষা করে দেখবো, যদি কোনও অসংসদীয় ভাষা থাকে সেটা আমরা এক্সপ্যাঞ্জ করবো, যদি থাকে। আর দ্বিতীয়ত, এটা তো বাংলাদেশের রাজনীতির ভাষা। আমরা চুপ করে থাকবো না, এগুলো তো শত বছর ধরে রাজনীতিবিদরা বলে এসেছেন। আপনারা যখন বক্তৃতা দেবেন তখন এর জবাব দেবেন।”


তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন