শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬

হ্যাকারদের কবলে অর্থ মন্ত্রণালয়, গায়েব ২৫ লাখ ডলার, তদন্তে শ্রীলঙ্কা

সোনার দেশ ডেস্ক ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪৭ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪৭ অপরাহ্ন
হ্যাকারদের কবলে অর্থ মন্ত্রণালয়, গায়েব ২৫ লাখ ডলার, তদন্তে শ্রীলঙ্কা
প্রতিনিধিত্বশীল ছবি। ছবি: রয়টার্স

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার সিস্টেমের নিরাপত্তা ভেদ ও ২৫ লাখ ডলার চুরির ঘটনায় শ্রীলঙ্কা তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।


এই অর্থ অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে নেওয়া দ্বিপাক্ষিক এক ঋণ পরিশোধের কিস্তি ছিল।


এখন সামনে এলেও চলতি বছরের জানুয়ারির কোনো এক সময়ে এ হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি ঘটে বলে শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ মনে করছে।


“শ্রীলঙ্কা বকেয়া কিস্তি ঠিকই পরিশোধ করেছিল। কিন্তু সাইবার অপরাধীরা মাঝখানে ঢুকে পড়ে এবং প্রকৃত প্রাপকের বদলে অন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকাটি পাঠিয়ে দেয়,” লঙ্কান অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব হার্শানা সুরিয়াপ্পেরুমা বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।


এ ঘটনায় সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের চার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বিদেশি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহায়তা চেয়েছে, বলেছেন হার্শানা।


হ্যাকাররা কীভাবে ওই অর্থ চুরি করেছিল, তার বিস্তারিত বিবরণ স্পষ্ট নয়। ঋণের কিস্তি পরিশোধের ইমেইলভিত্তিক পেমেন্ট নির্দেশনায় হ্যাকাররা কারসাজি করেছিল বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।


অস্ট্রেলীয় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান কিস্তির টাকা পায়নি জানানোর পর শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তারা ওই ২৫ লাখ ডলার ‘গায়েব’ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি ধরতে পারেন।


শ্রীলঙ্কার অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনিল জয়ন্ত ফার্নান্দো জানান, ভারতকে আরেকটি অর্থ পরিশোধের সময় সাইবার অপরাধীরা সেখানেও হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে হ্যাকিংয়ের ব্যাপ্তি স্পষ্ট হতে থাকে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যে গরমিল দেখে কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হওয়ায় সে যাত্রায় বেঁচে যায় লঙ্কানরা।


নানান ধরনের নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কী করে ব্যর্থ হল এবং এখন কীভাবে চুরি যাওয়া অর্থ ফেরানো যায়, কর্মকর্তারা তা খতিয়ে দেখছেন।


এই সাইবার হামলার ঘটনাকে শ্রীলঙ্কার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এটি এমন সময় ঘটল যখন দ্বীপদেশটি চার বছর আগের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। সেবার শ্রীলঙ্কার বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ফুরিয়ে গিয়েছিল।


কলম্বো পরিণত হয়েছিল ঋণখেলাপিতে; সেসময় তার বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলার।


বিদেশি মুদ্রা না থাকায় সরকার খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধ আমদানি করতে পারছিল না, যার দরুন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় দানা বাঁধে সরকারবিরোধী তুমুল বিক্ষোভ, যা শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালের জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পতন নিশ্চিত করে।


কলম্বোতে অস্ট্রেলিয়ার হাই কমিশনার ম্যাথিউ ডাকওর্থ বলেছেন, পাওনা টাকার কিস্তি পরিশোধের ক্ষেত্রে যে অনিয়ম ঘটেছে সে বিষয়ে ক্যানবেরা অবগত।


“শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ ব্যাপারটা খতিয়ে দেখছে এবং তদন্তে সহায়তা করা অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়সাধন করছে,” এক্সে এমনটাই লিখেছেন ডাকওর্থ।


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ