শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬

রূপপুরে জ্বালানি লোডিং, ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ মঙ্গলবার

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০১:৩১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০১:৩১ অপরাহ্ন
রূপপুরে জ্বালানি লোডিং, ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ মঙ্গলবার

পাবনার ঈশ্বরদীতে বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণিবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য রূপপুরসহ ঈশ্বরদী উপজেলাজুড়ে সরকারের প্রশাসনিক পর্যায়ে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়েছে।


শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব। এর আগে বৃহস্পতিবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ সূত্র এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী মহুয়া মমতাজ সাক্ষরিত এক চিঠিতে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসনকে উপজেলা পর্যায়ের সকল সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে আবাসনের ব্যবস্থা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাশিয়ার প্রসিডেন্ট উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, একাধিক মন্ত্রী. সংসদ সদস্য, সচিব এবং রাশান ফেডারেশন রসাটম এর মহাপরিচালক এইচ.ই. মি. এলেক্সি লিখাচভসহ রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা রূপপুর প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে রূপপুর প্রকল্প উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করবে।


তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী আগষ্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। সেইসঙ্গে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। ইতোপূর্বে গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করে। 


নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান জানান, রিঅ্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করতে ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগবে। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি লোড করার পর আমরা চুড়ান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষণ রিপোর্ট তৈরির জন্য বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবো। এটি অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং পর্যায়।


প্রকল্প সূত্র জানায়, পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়েছে। এখানে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে এখান থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। যা বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশেরও বেশি।