শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬

রাণীনগরে বাড়ছে বাল্য বিয়ে, ঘটছে বিবাহ বিচ্ছেদ

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০৭ অপরাহ্ন
রাণীনগরে বাড়ছে বাল্য বিয়ে, ঘটছে বিবাহ বিচ্ছেদ
ফাইল ছবি

নওগাঁর রাণীনগরে দিন যতই যাচ্ছে ততই বাড়ছে বাল্য বিয়ে। অর্থের লোভে কাজীরা ভূয়া জন্মসনদ ও অন্যান্য ভূয়া কাগজপত্রাদি দিয়ে গোপনে বাল্য বিয়ে রেজিস্ট্রি করছেন। বিয়ের কিছু দিন পরই নানা কারণে ভাঙছে সংসার আর আদালতের মাধ্যমে বাড়ছে মামলা জট। সম্প্রতি এক লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। 


ভূয়া কাগজপত্রাদি তৈরি করে অবৈধভাবে বাল্য বিয়ে নিবন্ধন, অর্থের বিনিময়ে দেনমহরের অর্থের পরিমাণ রদবদল করে একাধিক কাবিননামা প্রদান করাসহ নানা বিষয় তুলে ধরে উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের কাজী মো. বেলাল হোসাইনের অবৈধ নানা কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উপজেলার চকমনু গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মো. সিরাজ-এ আলম সিরাজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।


অভিযোগকারী আরো জানান, শুধু রাণীনগর উপজেলা নয়- পুরো নওগাঁ জেলাসহ দেশব্যাপী বছরের পর বছর অর্থের বিনিময়ে বিয়ে সংক্রান্ত নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে কাজী মো. বেলাল হোসাইন এমন অভিযোগও রয়েছে শত শত।


লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে জানা যায় যে, বাল্য বিয়ে রেজিস্ট্রির ৮মাস পর বয়স পরিবর্তন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ভূয়া জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে একটি বাল্য বিয়ে সম্পন্ন করেছে কাজী মো. বেলাল হোসাইন। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের ১৩ তারিখে উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের লতিফের মেয়ে তাছিন ফাতেমা লামমির সঙ্গে পার্শ্ববর্তি বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের ঢেকড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে আসলাম হোসেনের সঙ্গে হওয়া বিয়ে রেজিস্ট্রি করে কথিত কাজী মো: বেলাল হোসাইন।


০৭-০৬-২০২২ তারিখে প্রদান করা কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের জন্মনিবন্ধনে মেয়ে লামমির বয়স উল্লেখ্য করা হয় ২৫-০৪-২০১২। যার রেজিস্ট্রি নম্বর: ২০১২৬৪১৮৫৫২১০৪৯৮৮। সেই বয়স অনুসারে মেয়ে লামমির বিয়ের বয়স না হওয়ায় কাজী মো: বেলাল হোসাইন অর্থের বিনিময় একটি চক্রের মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে মেয়ে লামমির নামে শুধু ফাতেমা নামে একটি ভুয়া জন্ম নিবন্ধন তৈরি করে। যেখানে মেয়ে লামমির বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ২৫-০৪-২০০৭।


যার রেজিস্ট্রি নং ২০০৭২৬৯২০৬২০৬৬৬৭২ এবং ইস্যুর তারিখ ০১-০৪-২০২৬ যা সম্পন্ন ভুয়া। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয় যে, কাজী মো: বেলাল হোসাইন ২নং কাশিমপুর ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে পাওয়ার পর হতে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বাল্য বিয়ে নিবন্ধন, নিবন্ধনকালীন সময়ে এক পক্ষের নিকট হতে অর্থের বিনিময়ে নিকাহনামায় দেনমোহর বৃদ্ধি করেন। এসব বিষয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হলে সে টাকার বিনিময়ে পার পেয়ে আসছে।


সে বিগত সময় নিজেকে আ’লীগের দোসর সাজিয়ে বহাল তবিয়তে এমন অবৈধ কাজ করে, অনলাইন জুয়া ও অনলাইন ব্যবসার মাধ্যমে মানুষকে প্রতারিত করে লাখ লাখ টাকার মালিক বনে গেছেন। তার এমন অনৈতিক কাজে এলাকার সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। তার এমন কার্যকলাপে বহু সংসারে অশান্তির সৃষ্টি হচ্ছে এমনকি বিবাহ বিচ্ছেদের মত ঘটনাও ঘটছে। অথচ বছরের পর বছর কাজী মো: বেলাল হোসাইন প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন অবৈধ কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসলেও প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরব ভূমিকা সত্যিই রহস্যজনক।


উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের বালু ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ জানান তার মেয়ে তাছিন ফাতেমা লামমির বিয়ের বয়স না হওয়ার কারণে কাজী বেলালের মাধ্যমে একটি ভুয়া জন্ম নিবন্ধন তৈরি করে গোপনে মেয়ের বিয়ে দেন। বিয়ের পর জানতে পারেন ছেলের নানা সমস্যার কথা। তাই সম্প্রতি তিনি কাজী বেলালের মাধ্যমে খোলা তালাক দিয়ে তার মেয়ের বিবাহ বিচ্ছেদ করেছেন। ছেলের পরিবারের কাছ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ নেওয়ার জন্য কাজী বেলালের কাছ থেকে দেনমোহর পরিবর্তন করে অন্য একটি নিকাহনামা তৈরি করে নিয়েছেন তিনি। 


এই বিষয়ে কাজী মো. বেলাল হোসাইনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে তা রিসিভ না হওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। (মুঠোফোন নম্বর: ০১৭১৪৫২২৫৬৫)।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান সম্প্রতি তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি আইনী বিধি যাচাই-বাছাই করে তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।