শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬

তেলের দামে আগুন, ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলার ছাড়াল

সোনার দেশ ডেস্ক ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০১:২৩ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০১:২৩ অপরাহ্ন
তেলের দামে আগুন, ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলার ছাড়াল
প্রতীকী ছবি

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি জাহাজ জব্দের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাড়াতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। খবর আল-জাজিরার। 


শুক্রবার জিএমটি সময় রাত ১টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়ায় ১০৬.৮০ ডলারে, যা গত বুধবারের সমাপনী মূল্যের চেয়ে প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। উল্লেখ্য, বুধবার গত দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছিল।


এদিকে গত রাতে মার্কিন শেয়ার বাজারেও ধস নেমেছে। বেঞ্চমার্ক এস অ্যান্ড পি ৫০০ সূচক ০.৪১ শতাংশ এবং প্রযুক্তি খাতের নাসডাক কম্পোজিট সূচক ০.৮৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।


হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে এই পথে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। ইরান দাবি করছে, কোন জাহাজ এই পথ দিয়ে যাবে তা তারাই নির্ধারণ করবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যে বাধা দিচ্ছে।


বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ পোস্টে জানান যে, তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন কোনো ইরানি নৌযান যদি প্রণালিতে মাইন স্থাপন করে তাহলে যেন তা ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ঘোষণা করেছিল যে, তারা এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো নিষিদ্ধ ইরানি তেলবাহী একটি ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে।


ট্রাম্প মার্কিন নৌ-অবরোধের পরিধি ইরানের বন্দরগুলোর বাইরেও বিস্তৃত করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি ট্রুথ সোশালে লিখেছেন যে, মার্কিন নৌবাহিনীর অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজ এই প্রণালিতে ‘প্রবেশ বা প্রস্থান’ করতে পারবে না।


ট্রাম্প বলেন, “যতক্ষণ না ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এটি ‘পুরোপুরি সিলগালা’ থাকবে!”


ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজি) হরমুজ প্রণালিতে দুটি বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজ জব্দের ঘোষণা দেওয়ার একদিন পরই ট্রাম্পের এই হুমকি এলো।


আইআরজিসি জানিয়েছে, পানামার পতাকাবাহী ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ এবং গ্রিসের মালিকানাধীন ‘এপামিনোন্ডাস’ জাহাজ দুটি প্রয়োজনীয় অনুমোদ ছাড়া চলাচল করে এবং নেভিগেশন সিস্টেমে কারচুপি করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিপন্ন করায় সেগুলোকে জব্দ করা হয়েছে।


তবে গ্রিসের সামুদ্রিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘এপামিনোন্ডাস’ জাহাজটি জব্দের খবর অস্বীকার করে জানিয়েছে, জাহাজটি এখনো এর ক্যাপ্টেনের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।


সামুদ্রিক গোয়েন্দা প্ল্যাটফর্ম ‘উইন্ডওয়ার্ড’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার এই প্রণালি দিয়ে মাত্র ৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে মঙ্গলবার ছিল ৭টি এবং সোমবার ছিল ১৫টি।


জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৯টি জাহাজ চলাচল করত।


তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি