মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৬

ইজারায় জমি পেয়ে চাষাবাদ না করার জন্য হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৩২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৩২ অপরাহ্ন
ইজারায় জমি পেয়ে চাষাবাদ না করার জন্য হুমকি

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষ্ণবাটি কালিদিঘী গ্রামের ২৩ দশমিক ২৫ একর জমি ইজারা দিয়েছে গোদাগাড়ী থানা। এই জমি পাওয়ার দুই সপ্তাহ হয়ে গেলেও ব্যবহার করতে পারছেন না ইজারাদার। এই জমি পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন স্থানীয়রা কৃষকরা। তবে অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয়রা এই জমিতে চাষাবাদা না করার জন্য হুমকি দিচ্ছে। চাষাবাদ করলেও ফসল নষ্ট করে ফেলা হবে। 


গেল ১০ এপ্রিল এই জমি ইজারা দেওয়ার জন্য গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। এই জমির সর্বোচ্চ দর দেন মো. অলিউল্লাহ। ১২ এপ্রিল বর্গাচুক্তিও করা হয়। ওইদিন ইজারার টাকাও পরিশোধ করেন মো. অলিউল্লাহ। কিন্তু এখন পর্যন্ত জমি বুঝে পাননি তিনি। আবেদন পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে।    


এই জমি পাওয়ার জন্য গেল ৬ এপ্রিল আবেদন করেন মো. হাসানুজ্জামান নামের ব্যক্তি। এর আগে গেল বাংলা বছরে তিনি এই জমি ইজারা নিয়েছিলেন। এবারও তিনি নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। স্থানীয় ভূমিহীন কৃষকদের স্বাক্ষর নিয়ে তিনি ওসির কাছে জমাও দেন। কিন্তু তিনি জমি পাননি। 


তার আবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভূমিহীন এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে চাষাবাদের জন্য লিজ নিতে আগ্রহী। এর আগে গেল বছরে আমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করি। এই জমিতে ২৩ থেকে ২৪ ভূমিহীন ব্যক্তি চাষাবাদ করে আসছে।’ 


তার এই আবেদনে সুপারিশ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত শরীফ উদ্দিন। সুপারিশে তিনি লেখেন, ‘বিষয়টি বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হলো।’  


এ বিষয়ে মো. হাসানুজ্জামানা বলেন, স্থানীয় ভূমিহীন কৃষকদের পক্ষ থেকে এই জমি ইজারা নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলাম। ভূমিহীনরা চাষাবাদ করে। তারা ফসল ফলায়। এই টাকা দিয়ে তারা পরিশোধও করে। থানার ওসির কাছে আবেদন দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন টেন্ডার হওয়ার আগে জানাবেন। কিন্তু তিনি জানাননি। 


তিনি বলেন, জমির টেন্ডার হয়ে গেছে আজকে জানতে পারলাম। আমরা সর্বোচ্চ দর দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু যিনি জমি পেয়েছেন তিনি স্বাভাবিকভাবে এই জমি ব্যবহার করবেন। কিন্তু আবেদন কি অবস্থায় আছে তা বলতে পারবো না। 


তবে তিনি হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কে জমি পেয়েছে তা আমি নিজেও জানি না। সেখানে হুমকি দেওয়ার প্রশ্ন আসে না। 


এদিকে বর্গা চুক্তিনামায় বলা হয়েছে, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত আগামী ১ বছরের জন্য বর্গাদার নিয়োগ করা হয়েছে। দ্বিতীয়পক্ষ সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে বর্গাদার নিযুক্ত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। তফসিলভূক্ত সম্পত্তি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২৩ দশমিক ২৫ একর (৬৯ বিঘা ১৫ কাঠা) চাষাবাদ করে প্রতি বিঘায় বছরে সোয়া দুই মণ হারে ধান মোট ১৫৭ মণ পরিশোধ করবেন। যার বর্তমান বাজার মূল্য ১ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা। যা দ্বিতীয়পক্ষ পরিশোধ করলেন। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সম্পত্তি প্রথম পক্ষ দ্বিতীয় পক্ষকে চাষাবাদের জন্য বর্গাদার নিযুক্ত করলেন।


মো. অলিউল্লাহ বলেন, চুক্তি হওয়ার পর থেকে আগামী ১ বছরের জন্য জমি ইজারা আমিই পেয়েছি। সর্বোচ্চ দর দেওয়ায় আমাকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন সমস্যা করছে ওখানকার স্থানীয় কৃষকরা। তারা হুমকিও দিচ্ছে। এখানে ফসল লাগানো হলে তারা নষ্ট করে ফেলবেন। তারা বাদে এখানে কেউ ফসল করতে পারবেন না। হাসানুজ্জামান আমাকে যে হুমকি দিয়েছিলেন তার কলরেকর্ডও আছে আমার কাছে। তারা আমার কাছ থেকে জমি নেওয়ার চাপও দিচ্ছেন।  তবে ইজারা পাওয়ার পর থেকে আমি এই জমিতে যাইনি। মঙ্গলবার এই জমি দেখতে যাবো। স্থানীয়দের সঙ্গে কথাও বলবো।  


গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, প্রায় ৭০ বিঘা জমি লিজ দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে এই জমি আবার অন্য চাষিরাও নেয়। যিনি পেয়েছেন সর্বোচ্চ দামেই দেওয়া হয়েছে। যারা আবেদন করেছিলেন মনোক্ষুণ্ন হয়েছেন জমি না পাওয়ায়। এই জমির যখন চুক্তি হয় আমি থানায় ছিলাম না। গেল ১৭ তারিখে জয়েন করেছি। 


হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি। জানালে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।