বিজেপির বঙ্গজয়কে দরাজ সার্টিফিকেট দিলেন ট্রাম্প, মোদিকে কী বললেন তিনি?
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে এই ফলাফলকে “ঐতিহাসিক” ও “নির্ণায়ক” বলে উল্লেখ করেছেন। হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতের মতো দেশের জন্য মোদির মতো নেতা থাকা “সৌভাগ্যের বিষয়”।
এই বার্তা আসে ঠিক তখনই, যখন বিজেপি প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখল করেছে। এর ফলে অবসান ঘটেছে মমতা ব্যানার্জির ১৫ বছরের শাসনের, যা রাজ্যের রাজনীতিতে এক বড় পালাবদল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই জানিয়েছেন, সম্প্রতি ফোনালাপে ট্রাম্প মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করেছিলেন এবং এই নির্বাচনী জয়ের পর তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এই ফলাফল শুধু একটি রাজ্যের ক্ষমতা পরিবর্তন নয়, বরং জাতীয় রাজনীতিতেও এর গভীর প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
নয়াদিল্লিতে সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “বাংলার ভাগ্যে নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। গণতন্ত্রের শক্তি জয়ী হয়েছে এবং সুশাসনের রাজনীতি সফল হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষকে আমি প্রণাম জানাই।”
দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির জন্য একটি কঠিন রাজনৈতিক ক্ষেত্র ছিল। দেশের অন্যান্য প্রান্তে দ্রুত বিস্তার ঘটালেও, এই রাজ্যে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সময় লেগেছে। তবে গত কয়েকটি নির্বাচনে বিজেপি ধারাবাহিকভাবে ভোটের হার বাড়িয়ে প্রায় ৪০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, যা এবার জয়ের পথে সহায়ক হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল হঠাৎ করে হয়নি, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রস্তুতির ফল। শক্তিশালী সংগঠন না থাকা সত্ত্বেও বিজেপি ধীরে ধীরে নিজেদের সমর্থনভিত্তি বাড়িয়েছে এবং বিভিন্ন ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
এই নির্বাচনে ভোটারদের আচরণেও পরিবর্তন দেখা গেছে। এতদিন তৃণমূল কংগ্রেস নারী ভোটার, সংখ্যালঘু এবং একাংশ হিন্দু ভোটারদের সমর্থনের উপর নির্ভর করত। কিন্তু এবারে বিজেপি কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং রাজনৈতিক প্রচারের মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরের ভোটারদের মধ্যে সমর্থন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এখন নজর থাকবে, এই ঐতিহাসিক জয়ের পর বিজেপি কীভাবে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন ও প্রশাসনে নতুন দিশা দেখায়।
তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন