সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

রাজশাহীতে চার দফা দাবিতে পাঁচ ব্যাংক গ্রাহকদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০ মে ২০২৬ ০৯:৩৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১০ মে ২০২৬ ০৯:৩৬ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে চার দফা দাবিতে পাঁচ ব্যাংক গ্রাহকদের মানববন্ধন

রাজশাহীতে চার দফা দাবিতে একিভুত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকরা মানববন্ধন করেছে। শনিবার (১০ মে) সকালে নগরীর অলোকার মোড়ে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ভবনের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী বিভাগ।


মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রাহকেরা জানান, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (এফএসআইবি), গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক (জিআইবি), সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়নব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের পর থেকেই তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। 


তাদের অভিযোগ, আমানতের অর্থ উত্তোলনে নানা সীমাবদ্ধতা আরোপের পাশাপাশি ‘হেয়ারকাট’ নামে একটি প্রক্রিয়ায় জমাকৃত টাকার নির্দিষ্ট অংশ কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা গ্রাহকদের জন্য অমানবিক ও বৈষম্যমূলক।


মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নওশীন জাহান, আপেল মাহামুদ, তাহমিদুল হক, মো. ফয়সাল কবির ও মাসুদ রানাসহ বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকেরা। তারা বলেন, অনেক পরিবার জমি-বাড়ি বিক্রি, প্রবাসী আয়, পেনশন কিংবা ব্যবসার সঞ্চিত অর্থ এসব ব্যাংকে রেখেছিলেন। সেই টাকার মুনাফার ওপর নির্ভর করেই চলত সংসার, সন্তানের পড়াশোনা ও চিকিৎসা ব্যয়। কিন্তু গত দুই বছর ধরে স্বাভাবিকভাবে টাকা তুলতে না পারায় বহু পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে।


বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত দুই বছরের মুনাফা কর্তন করে মাত্র ৪ শতাংশ সরকারি অনুকম্পা দেওয়ার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে লাখো আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তারা দাবি করেন, দেশে প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহকের প্রায় ৩ কোটি পরিবারের সদস্য এই সংকটের সঙ্গে জড়িত।


মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘হেয়ারকাট’ বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের টাকা ফেরত, অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের মতো স্বাভাবিক লেনদেন চালু, এফডি, ডিপিএস ও এমটিডিআরের টাকা পূর্ণ মুনাফাসহ পরিশোধ এবং ২০২৬ সালের জন্য ঘোষিত ৯ থেকে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফার হার প্রত্যাহার।


বক্তারা আরও বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। নিজেদের টাকা তুলতে না পারলে বহু পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়বে। দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে রাজশাহীতেও চট্টগ্রামের মতো ব্যাংক শাখায় তালা ও কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করার মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।


মানববন্ধন শেষে এক্সিম ব্যাংকের প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। পরে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ হয়।