পবায় সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জোরদারের আহ্বান
নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিকার ও প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে রাজশাহীর পবায় অনুষ্ঠিত এক অ্যাডভোকেসি ডায়ালগে। সোমবার (১১ মে) বেলা ১২টায় পবা উপজেলার ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে এ ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়। ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি (জিজেডি) প্রোগ্রামের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবনুল আবেদীন।
তিনি বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, এর জন্য সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, পারিবারিক মূল্যবোধ, সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে সহিংসতার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। নারী ও শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পবা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন খান এবং মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুন। বক্তারা বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নের পথে বড় বাধা। এ সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে“নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিকার-প্রতিরোধ”বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক-জিজেডি’র রিজিওনাল ম্যানেজার অপূর্ব সাহা। তিনি তার প্রবন্ধে নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও অনলাইন সহিংসতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি সহিংসতা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা প্রদান এবং সামাজিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ডায়ালগে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে কেবল আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও জরুরি।
নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, স্বপ্নসারথি সদস্য ও স্বাস্থ্যসেবিকারা নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় আগামী এক বছরের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।