এবারও বিপর্যয়ে বাঘার পেঁয়াজ চাষ
গত বছর রাজশাহীর বাঘার পেঁয়াজ চাষি রুহুল আমিন দাম না পেয়ে আত্মহতা করেন। এবারও দাম পাচ্ছেনা কৃষক্। গতবারের তুলনায় আবাদের জমি বেড়েছে। ফলনও বেড়েছে। দাম কমে গেছে পাল্লা দিয়ে। এখন রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় একশো টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ছয় থেকে সাত কেজি। হাটে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা মন দরে বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ কৃষক ঋণ নিয়ে আবাদ করে।
সে কারণে তারা ফসল ওঠার পরেই বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এ সময় তারা ন্যয্য দামও পায়না। সোমবার (১১ মে) খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক-খানি ও পরিবর্তন চাষিদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সরেজমিন খোঁজ নেয়া হয়। গত বছর ঘটনার সময় অতিরিক্ত আবাদ যাতে না হয়। কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্থ্য না সে জন্য চাহিদা অনুযায়ি আবাদ বা ক্রপ জোনিং এর বিষয় আলোচনায় আসে এবার তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায় নি।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, মৌসুমের শুরুতে সব ফসলেরই দাম কম থাকে এবারও কম আছে। মাস খানেক পরে এই পেয়াজ দুই হাজার টাকা মন দরে বিক্রি হবে। কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এবার ১৯২৬ হেক্টর জমিতে পেয়াজের আবাদ হয়েছে। গতবার জমির পরিমান ছিল ১৮৪০ হেক্টর। এবার উৎপাদন হয়েছে ৩৮ হাজার ৯৬৩ মেটিক টন। গতবার এর পরিমান ছিল ৩৭ হাজার। এই এলাকার জন্য উদ্বৃত্ত উৎপাদন।
পেঁয়াজ চাষি শরিফুল ইসলাম এবার ২৬ বিঘা জমিতে আবাদ করেন। এখন যা বাজার দর সেটা অনুযায়ী তার লোকসান প্রায় ১০ লাখ টাকা। এবছর যে উৎপাদন হয়েছে তাতে এবার লাভের মুখ দেখা সম্ভব হবে কিনা বলা যাচ্ছে না। আরো কয়েক মাস পেঁয়াজ ঘরে সংরক্ষণ করতে হবে। জানালেন তিনি।
আত্মঘাতি রুহুল আমিনের পরিবারে নেমে এসেছে বিপর্যয়। স্ত্রী মরিয়ম মার্চ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। দেড় মাস হাসপাতালে ছিলেন। এখন ঈশ্বরদীতে মেয়ের কাছে আছেন। তার দুই পা ভেঙ্গে গেছে। রুহুল আমিনের ছেলে মীর মশিউর রহমান রনি ঢাকার সাভারে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত। তিনি বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পরে তার পরিবারে বিপর্যয় নেমে এসেছে। এখন আর কেউ গ্রামে থাকে না। মাঠে আবাদ বন্ধ। মায়ের সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হওয়ার পরে তার এখন গ্রাম ছাড়া। ঋণে জর্জরিত রুহুল আমিন গতবছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাঘার আড়ানি রেল স্টেশানে ট্রেনের তলায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহতা করেন। গত বছর তিনি এক বিঘা জমিতে পেয়াজ চাষ করেন।