শনিবার, মে ১৬, ২০২৬

চাঁদের আলোয় বিরল রংধনু, দেখা মিলবে যেখানে

সোনার দেশ ডেস্ক ১৫ মে ২০২৬ ০৯:৫৯ অপরাহ্ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সোনার দেশ ডেস্ক ১৫ মে ২০২৬ ০৯:৫৯ অপরাহ্ন
চাঁদের আলোয় বিরল রংধনু, দেখা মিলবে যেখানে

সূর্যের আলোতে রংধনু দেখছেন। কিন্তু কখনো কি রাতে চাঁদের আলোয় রংধুন দেখেছেন? কী রাতে রংধনুর কথা শুনে চমকে উঠেছেন? চাইলে রাতেও দেখতে পারেন প্রকৃতির অন্যতম বিরল দৃশ্য।


জিম্বাবুয়ে এবং জাম্বিয়ার সীমান্তের ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত পৃথিবীর অল্প কয়েকটি স্থানের একটি, যেখানে এই ‘মুনবো বা চন্দ্রধনুর’ দেখার সুযোগ মিলতে পারে।


সম্প্রতি ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতে সারাহ স্টিজার রাতে চাঁদের আলোতে তৈরি রংধনু দেখেন এবং তা ক্যামেরাবন্দি করেন। সারাহ স্টিজার সংবাদ মাধ্যম বিবিসি-তে তার চন্দ্রধনু দেখার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।


সারাহ স্টিজার তার বিরল অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, সেখানে (ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতে) কোনো ফ্লাডলাইট ছিল না।


ছিল কেবল উদীয়মান পূর্ণিমার চাঁদের ম্লান আভা আর জাম্বিয়ার রাতের ঘন নীল-কালো অন্ধকার। অন্ধকারের ওপারে, ১০০ মিটারেরও (৩২৮ ফুট) বেশি নিচে গিরিখাতের মধ্যে আছড়ে পড়ছিল পানি।


আছড়ে পড়া পানি বাতাসের অনেক উঁচুতে বিশাল জলকণা বা স্প্রে-র স্তম্ভ পাঠিয়ে দিচ্ছিল।


সারাহ আরও বলেন, তারপর ধীরে ধীরে, প্রায় অলক্ষ্যে, জলকণার মাঝে একটি ম্লান দাগ, সরাসরি সেদিকে না তাকালে দেখা কঠিন। তারপর একটি বক্ররেখা ফুটে উঠল- একটি কোমল, উজ্জ্বল বন্ধনী; অন্ধকারের বুক চিরে প্রসারিত এবং নিচে হা করা গিরিখাতের ওপরে ঝুলে আছে রংধনু। এটি ছিল ‘মুনবো’ বা একটি চন্দ্রধনু। এটি সূর্যের আলোয় নয় বরং চাঁদের আলোয় তৈরি হয়।


জিম্বাবুয়ে এবং জাম্বিয়ার সীমান্তের মাঝে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জলপ্রপাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত। এটি স্থানীয়ভাবে ‘মোসি-ওয়া-তুনিয়া’ বা ‘বজ্রধ্বনি সৃষ্টিকারী ধোঁয়া’ নামে পরিচিত।


প্রতি বছর প্রায় দশ লাখ মানুষ এই ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত দেখতে আসেন। যাদের বেশিরভাগই দিনের আলোতে আসেন। কিন্তু অন্ধকার হওয়ার পর, পূর্ণিমার সময়টিতে অভিজ্ঞতাটি সম্পূর্ণ বদলে যায়। তখন রাতে অন্ধকারে চাঁদের আলোয় দেখা মিলতে পারে এই বিরল মুনবো বা চন্দ্রধনুর।


তথ্যসূত্র: বিবিসি, বাংলানিউজ