রবিবার, মে ১৭, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে পবায় ফ্যামিলি কার্ড পেল ৬৬৯ পরিবার, মোবাইলে পৌঁছাল ভাতার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ মে ২০২৬ ০৯:৩১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ মে ২০২৬ ০৯:৩১ অপরাহ্ন
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে পবায় ফ্যামিলি কার্ড পেল ৬৬৯ পরিবার, মোবাইলে পৌঁছাল ভাতার টাকা

রাজশাহীর পবা উপজেলায় ৬৬৯টি পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠ থেকে দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং কার্যক্রম’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে একটি ডিজিটাল ক্লিকের মাধ্যমে দেশের ২০টি ইউনিটে ১৪ হাজার ৩৭০ জন নারী সুবিধাভোগীর মোবাইলে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর মাধ্যমে ভাতার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছে যায়।


ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের তিনটি গ্রাম—বেড়পাড়া, দবিরমোল্লা পাড়া ও দরগা পাড়ায় এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। রাজশাহী প্রান্তে বায়া শিশু পরিবার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে ১০ জন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদ, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাইমুল হাছান, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক সৈয়দ মোস্তাক হাসান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদীনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে সুবিধাভোগীদের মধ্যে দেখা গেছে স্বস্তি ও আশাবাদের প্রতিফলন। পবা উপজেলার বাসিন্দা বিলকিস বানু বলেন, “এই কার্ড আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা। আগে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো, এখন নিয়মিত ভাতা পেলে কিছুটা হলেও স্বস্তি পাব।”


একই এলাকার ফিরোজা বেগম বলেন, “মোবাইলে টাকা আসার খবর পেয়ে খুব ভালো লেগেছে। এখন আর ধারদেনার উপর নির্ভর করতে হবে না। এতে আমাদের জীবনযাত্রা কিছুটা সহজ হবে।”


দরগা পাড়ার রহিমা খাতুন বলেন, “এভাবে সরাসরি মোবাইলে টাকা পাওয়াটা আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। এতে আমাদের আস্থা বেড়েছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা নিশ্চিন্ত বোধ করছি।”


অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি উপকারভোগীদের হাতে ভাতা পৌঁছে দেওয়ার ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হচ্ছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ কমছে।


স্থানীয় প্রশাসন জানায়, পাইলটিং কার্যক্রমটি সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে দেশের আরও বেশি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবার সরকারি সহায়তার আওতায় আসবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করবে।