রবিবার, মে ১৭, ২০২৬

ভারতের দালালদের হাত-পা ভেঙে পুলিশে দিতে হবে : কর্নেল অলি

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ মে ২০২৬ ১০:৩৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ মে ২০২৬ ১০:৩৮ অপরাহ্ন
ভারতের দালালদের হাত-পা ভেঙে পুলিশে দিতে হবে : কর্নেল অলি

বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশি ও বিশেষ করে ভারতের দালালদের চিহ্নিত করে তাদের হাত-পা ভেঙে পুলিশে সোপর্দ করার জন্য দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম)। তিনি বলেন, এই সমস্ত বিদেশি দালালদের কারণেই এ দেশের মানুষ বিগত ১৯ বছর ধরে অপরিসীম কষ্ট ও নির্যাতন সহ্য করেছে। 


শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্য আয়োজিত এক বিশাল বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই হুঁশিয়ারি ও পরামর্শ দেন। গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, চরম জনদুর্ভোগ লাঘব এবং ফারাক্কা ও পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।


ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন রাজনৈতিক নেতাদের বাংলাদেশ বিরোধী উগ্র বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে কর্নেল অলি আহমদ বলেন, ‘আমাদের এখানে দেখতে হবে ভারতের শুভেন্দুর কোনো ফলোয়ার বা অনুসারী লুকিয়ে আছে কি না। এই গরুটা সেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অনবরত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক হুমকি দিয়ে যাচ্ছে যে তারা যুদ্ধ ঘোষণা করবে এবং বাংলাদেশ নাকি দখল করে নেবে। এটা কি তোমার বাপের দেশ যে তুমি চাইলেই দখল করে নিবা?


আমরা বাংলাদেশিরা যদি এখন পাল্টা বলি—আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়সহ ভারতের পুরো সেভেন সিস্টার্স আমরা দখল করে নেব, তখন তোমাদের কেমন লাগবে? আমরা তো সেই ধরনের আগ্রাসী কথা বলছি না। আমরা শুধু বলি, আমাদেরকে আমাদের মতো শান্তিতে থাকতে দাও। তোমরা তোমাদের নিজেদের ঘরে শান্তিতে থাকো। তোমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করব না, কিন্তু তোমরা প্রতিনিয়ত আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে যাচ্ছ, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’


প্রতিবেশী দেশের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং অতীতের সীমান্ত সংকটের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এলডিপির চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল ও অশান্ত করার ব্যাপারে ভারত এখন গভীর চক্রান্তের অংশ হিসেবে নতুন নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনআমলে কাদের সিদ্দিকীসহ তৎকালীন আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে শুরু করে ময়মনসিংহ পর্যন্ত পুরো সীমান্ত অঞ্চলকে সশস্ত্রভাবে অস্থিতিশীল করে তুলেছিল। সেই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনেক কষ্ট হয়েছিল।


তিনি আরও বলেন, তবে তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ভালো এবং ভদ্রলোক ছিলেন, যার কারণে তিনি নিজেই সেই সীমান্ত সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে কোনো ভালো ও ভদ্রলোক ভারতের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নেই; সেখানে মুসলমানদের নামাজ পড়তে দেওয়া হচ্ছে না, ঐতিহাসিক মসজিদ ভেঙে দেওয়া হচ্ছে এবং মুসলমানদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশে অন্য ধর্মের ওপর কোনো অন্যায়ের ঘটনা ঘটে না, কারণ এ দেশের মানুষ আল্লাহর বিধান মেনে চলে।


দেশের বর্তমান ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবক্ষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অলি আহমদ বলেন, বাংলাদেশে এখন সমস্ত বিদেশি বিনিয়োগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে এবং যেসব বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এ দেশে সচল ছিল, তারাও একে একে নিজেদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছে। ফলে আমাদের শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা চাকরি না পেয়ে কোথায় যাবে এবং দেশে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। 


দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ জনগণ চরম দুঃসহ জীবন যাপন করছে এবং প্রতিদিন পত্রিকা খুললেই শুধু নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর চোখে পড়ছে। মানুষের মনে যখন অশান্তি তীব্র হয় এবং মানুষ যখন নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত হয়, সে তখন আর রাজনৈতিক ডান-বাম বা বাছবিচার দেখে না, সরাসরি বিদ্রোহ করে।


সমাবেশের শেষভাগে দেশের বর্তমান সামগ্রিক সংকট দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে জরুরি পরামর্শ দিয়ে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত বুঝতে হবে যে তিনি দেশের এই বিশাল বেকার সমস্যা কীভাবে সমাধান করবেন এবং প্রতিবেশী ভারতকে কীভাবে কূটনৈতিকভাবে সামাল দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর নিজের রাজনৈতিক দলের লোকজন দেশজুড়ে যে ব্যাপক চাঁদাবাজি চালাচ্ছে, মূলত সেই চাঁদাবাজির কারণেই বাজারে প্রতিটি দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই অনতিবিলম্বে সেই সমস্ত দলীয় চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। 


তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের বিরোধী দলগুলো সরকারের কাজে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করছে না, বরং গত ৫০ বছরে সংবিধানে ও প্রশাসনে যেসব বড় ভুলভ্রান্তি ও ত্রুটি জমেছে, সেগুলো দ্রুত সংশোধন ও ঠিক করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বিনীত অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ১১ দলীয় ঐক্য রাজশাহী বিভাগ আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।