কোরবানি হাটে পশু আছে, ক্রেতা নেই
আর সপ্তাহ পরই পালিত হবে পবিত্র ইদুল আজহা। নিজের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে কোরবানির প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এক মাস থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ছোট ও বড় খামারিরা। গেল সপ্তাহ থেকে হাটেও পশু উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু দেখা মিলছে না কাক্সিক্ষত ক্রেতার। বিক্রেতা ও ইজারদাররা বলছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে জমে উঠবে হাট। বিক্রিও বাড়বে।
এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় পশুর হাট হচ্ছে ‘সিটি হাট’। বর্তমানে এই হাটে দিনে নিয়ে আসা হচ্ছে পশু। সপ্তাহের প্রতি রোব ও বুধবার বসে এই হাট। আগামী সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন এই হাট বসবে। শুধু এই হাট না সোনাইচণ্ডী হাট, কাঁকনহাট, দামকুড়াহাট, সাবাইহাট, বানেশ্বরহাট, কাটাখালীহাট, নওহাটাহাট, কেশরহাট, তাহেরপুর হাট ও চৌবাড়িয়া হাটগুলোও জমে উঠেনি।
বুধবার (২০ মে) ছিল সিটিহাট। এদিন হাটে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন আকারের গরু নিয়ে এসেছেন খামারি ও ব্যাপারিরা। হাটে সর্বনিম্ন দুই মণ ওজনের গরু থেকে আছে বিশাল আকৃতির গরু। কিন্তু বিক্রেতারা বলছেন, হাটে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। এখানে সর্বনিম্ন গরুর দামও ১ লাখ টাকা চাওয়া হচ্ছে। আর মাঝারি আকারের গরুগুলো চাওয়া হচ্ছে দেড় থেকে দুই লাখ।
বিক্রেতারা বলছেন, প্রতিকেজি মাংস হাজার টাকা ধরে দাম চাওয়া হচ্ছে। চার মণ ওজনের গরু দাম দেড় লাখ টাকা ও তিন মণ ওজনের গরুর দাম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। এবার দামাদামি করার সুযোগও থাকছে।
তানোরের নারায়ণপুর থেকে দুটি গরু নিয়ে এসেছেন সোহাগ আলী। তিনি বলেন, হাটে আজ প্রথম আসলাম। দুটি গরুই প্রায় ৬ মণ ওজনের হবে। এগুলো দুটির দাম চাচ্ছি আড়াই লাখ টাকা করে। সোয়া দুই লাখ টাকা দাম পাওয়া গেলে বিক্রি করে দেব।
আরেক বিক্রেতা রমজান আলী জানান, খামারে চারটির মধ্যে তিনটি কোরবানির উপযোগী গরু। এর মধ্যে একটা করে হাটে নিয়ে আসা হচ্ছে। ক্রেতা সেভাবে নেই। দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছে। কেউ আর দামাদামি করছে না।
হাটের বাইরেও অনেকে সরাসরি বাড়ি অথবা খামার থেকেও অনেকে গরু পছন্দ করছেন। বড় খামারগুলোতে লাইভ ওয়েটে বিক্রি করা হচ্ছে গরু। প্রায় সব খামারে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতা ও খামারিদের দাবি, গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে এবার পশু লালন-পালনে গেলবারের চেয়ে অনেক বেশি খরচ হয়েছে।
রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর জেলায় কোরবানির জন্য ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর বিপরীতে স্থানীয় পশুর চাহিদা ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি। ফলে এবার জেলায় প্রায় ৯২ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যা ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য ঘাটতি জেলাগুলোতে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, গেল বছর এই জেলায় পশুর মোট সরবরাহ ছিল ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৮৯৩টি এবং চাহিদা ছিল ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪৩৭টি।
রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতোয়ার রহমান বলেন, খামারিরা যাতে পশুর ন্যায্যমূল্য পান, সে লক্ষ্যে পশুর হাটগুলোতে কঠোর নজরদারি ও মনিটরিং সেল জোরদার করা হবে। একই সাথে প্রাণিসম্পদ বিভাগ খামারিদের চিকিৎসা ও সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।
রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার শওকত আলী বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন হাট বসবে। এখন ক্রেতারা সেভাবে আসছেন না। হাটের নিরাপত্তায় পুলিশ আছে। এছাড়াও জাল টাকা শনাক্তে বিশেষ টিম কাজ করছে।