আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি
দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপ দরকার
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও চুরি-ডাকাতি বৃদ্ধি পাওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সরকার ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এর তথ্যমতে, গত ১৬ মাসে বাংলাদেশে অন্তত ৫৮০টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে ৪৮৩ জনকে। এই সময়ে আরো অন্তত ৩১৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার। ২১ মে সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এইচআরএসএস’র সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে অন্তত ১ হাজার ৮৯০ জন শিশু ও কিশোরী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। অবিলম্বে সব শিশু হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একইসঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের যথাযথ প্রয়োগ, ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
এইচআরএসএস’র উপস্থাপিত তথ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় এই মুহূর্তে সারা দেশে তোলপাড় চলছে। শিশু ধর্ষণের আধিক্য এতো বেশি মাত্রায় সংঘটিত হচ্ছে- তাতে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।
আগস্ট অভ্যুত্থানের পর মব তৈরি করে সন্ত্রাস, খুন, চাঁদাবাজি, দখলের মত ঘটনা গতি পেয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার আমলে ভয়াবহ সব ঘটনার কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় নি। এর ফলে মব সন্ত্রাস সারা দেশে মানুষের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছে। এই ভীতিকর পরিস্থিতি থেকে দেশের মানুষকে নিরাপত্তা দিয়ে আশ্বস্ত করা এই মুহূর্তে সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। দ্রুত নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার করতে বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ টহল ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতির পেছনে মূলত কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে- বিভিন্ন এলাকায় খুন, ধর্ষণ, কিশোর গ্যাঙের দৌরাত্ম্য, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষ রাস্তায় ও নিজ বাড়িতে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেক সময় অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকারের দিক থেকে দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপ দরকার। বিলম্ব হলে সংকট যে আরো ঘনীভূত হবে- তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একইসাথে সামাজিক প্রতিরোধে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাও সময়ের দাবি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।