বগুড়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পলিনেট পদ্ধতিতে শসা চাষ
জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাবমুক্ত এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বছরব্যাপী নিরাপদ ফসল উৎপাদনের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ‘পলিনেট হাউজ’ পদ্ধতিতে শসা চাষ দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার কৃষকের মাঝে। সনাতন পদ্ধতির চেয়ে এই আধুনিক প্রযুক্তিতে রোগবালাইয়ের উপদ্রব কম হওয়া এবং ফলন কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় এই সবজি জাতীয় ফসল চাষে দিন দিন কৃষকের আগ্রহ বেড়েই চলেছে দাবী স্থানীয় চাষিদের।
পলিনেট হাউজ হলো বিশেষ ধরনের অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী স্বচ্ছ পলিথিন ও নেট দিয়ে ঘেরা একটি বিশেষায়িত খামার। এই পদ্ধতিতে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তীব্র গরম বা অতিরিক্ত বৃষ্টির হাত থেকে চারা রক্ষা পায়।
কৃত্রিম কুয়াশা তৈরির জন্য ‘স্প্রিঙ্কলার’ এবং গাছের গোড়ায় সরাসরি সুষম পানি ও পুষ্টি পৌঁছানোর জন্য ‘ড্রিপ ইরিগেশন’ বা ফোঁটা ফোঁটা সেচ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। চারপাশ নেট দিয়ে আবৃত থাকায় ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে কীটনাশকের ব্যবহার প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে এবং সম্পূর্ণ বিষমুক্ত অর্গানিক শসা উৎপাদন করা সম্ভব হয়।
জেলার সোনাতলার যমুনা নদী বিধৌত ও পলিপ্রবণ অঞ্চলে অসময়ে বা গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহে সাধারণ জমিতে শসা চাষ করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। ফুল ঝরে যাওয়া, অতিরিক্ত তাপে গাছ শুকিয়ে যাওয়া কিংবা ছত্রাকের আক্রমণ সাধারণ ঘটনা। যখন বাজারে সাধারণ শসার ঘাটতি থাকে তখন পলিনেট হাউজের শসা বাজারে আসে। ফলে কৃষকেরা সাধারণ সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে বিক্রি করতে পারেন।
উন্নত ও হাইব্রিড জাতের শসা চাষ করায় প্রতিটি গাছের গিঁটে গিঁটে থোকায় থোকায় শসা ধরে। ১০ শতাংশের একটি ছোট পলিনেট হাউজ থেকেও বিপুল পরিমাণ ফলন পাওয়া সম্ভব। যদিও প্রাথমিক নির্মাণ খরচ কিছুটা বেশি, তবে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করলে একটি পলিনেট হাউজ কয়েক বছর ধরে ব্যবহার করা যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত লাভজনক। কামারপাড়া এলাকার এক কৃষক বলেন, গত বছর তিনি ১৫ শতক জমিতে শষা চাষ করে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রদর্শনী ব্লকের মাধ্যমে অনেকেই এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা শষা চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। দিন দিন ওই উপজেলার কৃষকেরা এই জাতীয় সবজি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, সোনাতলার কৃষকদের এই আধুনিক প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষিত বেকার যুবক ও প্রগতিশীল কৃষকেরা যদি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এই ফসল চাষ করেন, তবে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায় সরবরাহ করে কৃষক বড় ধরনের মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হবে।