তানোরে ফিল্ম স্টাইলে ছাত্রদের দিয়ে ভাঙ্গা হলো দোকান ঘর: জানেন না বিদ্যালয়ের সভাপতি
রাজশাহীর তানোরের নারায়ণপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের আলোচিত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আলী ওরফে আলার নির্দেশে বিদ্যালয় মোড়ের ১৭টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এনিয়ে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিনের নির্দেশে ও তার আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফিল্মি-স্টাইলে এসব দোকান ভাঙচুর, লুটপাট করেছে। এতে উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে ১৭টি পরিবার পথে বসেছে।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী রুবেল ইসলাম বাদি হয়ে আলাউদ্দিনসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনকে আসামি করে তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, রুবেল একজন ডিম ব্যবসায়ী, নারায়ণপুর স্কুল মোড়ে দোকানের পজিশন কিনে প্রায় ৫ বছর যাবৎ ডিম ব্যবসা করে আসছেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিনের নির্দেশে তার আত্মীয়-স্বজন দেশীয় অস্ত্র সজ্জিত হয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।এসময় রুবেল বাধা দিলে প্রধান শিক্ষক তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা ও দোকানের ক্যাশ ড্রয়ার থেকে ব্যবসার নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও দোকান ভাঙচুরে তার আরো প্রায় এক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
জানা গেছে, ১৯৮৪ সাল থেকে নারায়ণপুর গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে রাস্তা-সংলগ্ন সরকারি জায়গায় দোকান করে ব্যবসা শুরু করে এসব ব্যবসায়ীরা। আর ৯০ দশকে নারায়ণপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। এরপর থেকেই ওই জায়গার নাম হয় স্কুল মোড়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক কোনো কাগজপত্র ছাড়াই এসব জায়গা স্কুলের দাবি করে ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা শুরু করে। স্কুল পরিচালনা কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই তিনি তিন দিনের মধ্যে ব্যবসায়ীদের দোকান গুটিয়ে নেয়ার নোটিশ দেন। আবার দোকানের দেওয়ালে নোটিশ লাগান আর গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাঙচুর শুরু করেন।
তালন্দ ইউপির সাবেক ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী বলেন, নারায়ণপুর মৌজায়, খতিয়ান নম্বর-১৫, দাগ নম্বর ১৯৫৪, পরিমাণ ৪ দশমিক ৩৮ একর সম্পত্তির মালিক আরজান বিবি, রহিম বক্স মন্ডল, আলিম বক্স মন্ডল, রাবেয়া খাতুন, হাজেরা খাতুন ও ছবিজান বেওয়া। এসব সম্পত্তির মধ্যে ২ দশমিক ১৯ একর সম্পত্তিতে স্কুল করা হয়েছে। কিন্তু তারা কেউ এসব সম্পত্তি স্কুলের নামে রেজিস্ট্রি দেননি। জালিয়াতি করে এসব সম্পত্তি হাতিয়ে স্কুল করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিক ও রুবেল বলেন, আমরা বার বার বলেছি কাগজপত্রে স্কুলের জায়গা হলে আমরা স্বেচ্ছায় চলে যাবো। কিন্তু হেড মাস্টার কখানোই কাগজ দেখায় না, আবার জমি মাপজোক করে না। ১৫ নম্বর খতিয়ানের ১৯৫৩ নম্বর দাগ রাস্তার জায়গা এসব জায়গার উপর দোকান রয়েছে।
এ ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন বলেন, নোটিশ করার পর স্বইচ্ছায় দোকান্দাররা তাদের দোকান ভেঙে নিয়েছেন। ভিডিওতে আপনার নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের নিয়ে হামলা ও ভাঙচুর করার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে- এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তোর না দিয়ে এড়িয়ে যান এবং মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তিনি।
এ বিষয়ে নারায়ণপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান মুঠোফোনে বলেন, দোকন ঘর ভাঙচুর করার বিষয় আমি কিছু জানি না। এবিষয়ে আমাকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয় নি। আমি বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।
অভিযোগের বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান বলেন, অভিযোগ এখনো আমি পাইনি। তবে ঘটনাটি কে কেন্দ্র করে তালন্দ ইউনিয়ন পুলিশিং বিট অফিসার ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছু তথ্য নিয়ে এসেছেন। অভিযোগ হাতে পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।