শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প: সরকারের কাছে ১০ প্রশ্ন, তথ্য প্রকাশের দাবি

সোনার দেশ ডেস্ক ২২ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৪৫ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ২২ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৪৫ অপরাহ্ন
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প: সরকারের কাছে ১০ প্রশ্ন, তথ্য প্রকাশের দাবি

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের সব তথ্য-উপাত্ত জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।


একইসঙ্গে এ প্রকল্প নিয়ে ‘গোপনীয়তা’ বজায় রাখার অভিযোগ করে সংগঠনটি প্রশ্ন রেখেছে- এ ব্যারেজ কি শুধু বর্ষাকালের পানি শীতকালে ব্যবহার করবে? সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এ প্রকল্প নিয়ে এমন মোট ১০টি প্রশ্ন এ আলোচনা সভায় রাখা হয়েছে।


শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘গঙ্গা (পদ্মা) ব্যারেজ: কতিপয় প্রশ্ন ও প্রস্তাব’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব প্রশ্ন তোলা হয়। বাপা ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।


সভায় বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, “প্রকল্প করেন ভালো কথা, কিন্তু এত গোপনীয়তা কেন? এটি জনগণের নিকট প্রকাশ করতে হবে।”


সভায় যৌথভাবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপার সহ-সভাপতি ড. নজরুল ইসলাম ও যুক্তরাষ্ট্রের কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির ভূতত্ত্ব ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান।


নজরুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই ব্যারেজের ফলে পানখা থেকে পাংশা পর্যন্ত পদ্মার পানির উচ্চতা ১২ দশমিক ৫ মিটার রাখা সম্ভব হবে এবং পদ্মায় ২৮৯ দশমিক ১ কোটি ঘনমিটার পানি সঞ্চিত হবে।


প্রকল্পের সম্ভাব্যতা প্রতিবেদনে সুন্দরবনের লবণাক্ততা কমা ও জীববৈচিত্র্য বাড়বে বলা হলেও তিনি গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ভারতের সঙ্গে দেনদরবারের জন্য বাংলাদেশকে এখনই প্রস্তুত হওয়ার তাগিদ দেন।


খালেকুজ্জামান তার প্রবন্ধে বলেন, সমীক্ষাটি ২০১০ সাল পর্যন্ত পানি প্রবাহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে; ২০২৬ সাল পর্যন্ত উপাত্ত নেওয়া হয়নি। শুষ্ক মৌসুমে খরার সময়ে প্রয়োজনীয় ২ দশমিক ৯ বিসিএম পানি জমাতেই ৩৬ দিন লেগে যাবে। ফলে এই ব্যারেজ মূলত বর্ষার পানি ধরে রাখার বদলে ভাটির অঞ্চলকে পানিবঞ্চিত করার নীতিতে তৈরি।


নজরুল ইসলাম এ প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে ১০টি প্রশ্ন তুলে ধরেন এবং জনগণের পক্ষ থেকে এর ব্যাখা চান। সেগুলো হল-


>> এই প্রকল্প নিয়ে এত গোপনীয়তা কেন?

>> ব্যারেজ কি শুধু বর্ষাকালের পানি শীতকালে ব্যবহার করবে?

>> ভাটি এলাকার ওপর ব্যারেজের অভিঘাতের আলোচনা কোথায়?

>> গঙ্গার বর্ষাকালীন প্রবাহ এখন শাখাসমূহে প্রবাহিত হয় না কেন?

>> দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জলাবদ্ধতা সমস্যার আলোচনা ও সমাধান কোথায়?

>> উজানে পলিপতন, বন্যা এবং পাড় ভাঙনের বিষয়ে ব্যারেজের প্রবক্তাদের কথায় কতটা আশ্বস্ত হওয়া যায়?

>> পাংশার উজানে ব্যারেজের বিভিন্ন উপকারিতার অনুমান কতখানি নির্ভরযোগ্য?

>> এই ব্যারেজ কি গঙ্গার পানি ভাগাভাগির ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দুর্বল করবে না?

>> এত পুরোনো তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রকল্প প্রণয়ন কেন?

>> বর্তমান নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এত ব্যয়বহুল ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যারেজ প্রকল্প কতখানি উপযোগী?


আইডাব্লিউএমএর সাবেক নির্বহিী পরিচালক ও এ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এস এম মাহবুবুর রহমান ১০টি প্রশ্নের উত্তরে বলেন, এই প্রকল্প নিয়ে যথেষ্ট গবেষণার পরেই এটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। চীন-ভারত সবাইকে নিয়েই এই প্রকল্প করা হয়েছে।


তিনি বলেন, গঙ্গা প্রকল্পে এত গোপনীয়তা কেন সেই প্রশ্নের উত্তর তার জানা নাই। অক্টোবরে ব্যারেজের দরজাগুলো বন্ধ করা হবে এবং উপরে যে জলাধারগুলো সৃষ্টি হবে সেখান থেকে যেই সময়ে পানি পাওয়া যাবে শুকনো মৌসুমে সেই সময় পানি সরবরাহ দেওয়া হবে।


তিনি বলেন, ভাটি অঞ্চলের গঙ্গা ব্যারেজের উপরিভাগে অভিঘাতের বিষয়টি নিয়ে আলাদা একটা অধ্যায় আছে। সেখানে বিস্তারিত দেওয়া আছে।


বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম খান, ব্রির সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. আহাদ চৌধুরী, গবেষক ও সাংবাদিক শেখ রোকন এবং পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ মালিক ফিদা এ খান।


বক্তারা ব্যারেজ নির্মাণের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন মত তুলে ধরেন। কেউ কেউ একে ভবিষ্যৎ কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য জরুরি বললেও অনেকে এর পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন।


সভায় স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক এম ফিরোজ আহমেদ বলেন, ষাটের দশকে ভারত সরকারকে কাউন্টার করার জন্যই এই ব্যারেজের প্রস্তাব করা হয়েছিল। অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই প্রকল্পের সব তথ্য জনগণের স্বার্থে উন্মুক্ত করা উচিত।


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ