বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

রাজশাহীর ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ পরির্দশনে প্রাণিসম্পদের ডিজি

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৮ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৮ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪৮ অপরাহ্ন
রাজশাহীর ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ পরির্দশনে প্রাণিসম্পদের ডিজি

পদ্মার বুকে জেগে ওঠা একটি চর, যার আদি নাম ‘চরখিদিরপুর’। নদীর মাঝে অবস্থানের কারণে যা এখন পরিচিত ‘মিডিল চর’ নামে। চরটি ঘিরে রয়েছে পদ্মার বিস্তীর্ণ জলরাশি। জেগে ওঠা বালুচর ঢেকে গেছে সবুজ ঘাসে, যেখানে দিনভর চরে বেড়ায় গবাদিপশু। ছোট ছোট খড়ের ঘরে বসবাসকারী মানুষদের প্রধান পেশা কৃষি ও পশুপালন। এই সবুজ আর পশুচারণের দৃশ্যই চরটিকে এনে দিয়েছে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নাম।


আর এই ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ খ্যাত রাজশাহীর পদ্মা নদীর মনোরম মিডল চর পরিদর্শন করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান।


শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তারা পদ্মার মিডল চরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদীর তীরবর্তী পরিবেশ ও চরাঞ্চলের বিভিন্ন সম্ভাবনা ঘুরে দেখেন। এ সময় তারা চরের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।


পরিদর্শনকালে রাজশাহীর পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পদ্মার মিডল চরকে আরও আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে চরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নদীকেন্দ্রিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন সুবিধা বাড়ানোর বিভিন্ন সম্ভাব্য দিক নিয়ে তারা মতবিনিময় করেন।


পরিদর্শনকালে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক (পরিকল্পনা) ড. মো. বজলুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক ড. মো. সফিকুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদফতর রাজশাহী বিভাগের পরিচালক ড. আনন্দ কুমার অধিকারী, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈনসহ প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


চরের ঘরগুলো টিন ও নলখাগড়ায় তৈরি, নেই পাকা রাস্তা শুধু বালু উঁচু করে তৈরি চলাচলের পথ। প্রতিটি বাড়ির সামনে থাকে গরু, ভেড়া, ছাগল ও মহিষের বাথান, যেখানে প্রতি পালে থাকে ৮০ থেকে ৩০০টি পর্যন্ত পশু। এখানকার দুধ বিক্রি হয় রাজশাহী শহরের হোটেলগুলোতে, নদীর বাঁধে বসেই বিক্রি হয় প্রতি লিটার ৭০-৮০ টাকায়। চরের দক্ষিণে চলছে পাটজাগ ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ।


সাদা বালুর সঙ্গে কাশফুলের শুভ্রতা, নীল আকাশ আর মেঘের ভেলা মিলিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক ছবির মতো দৃশ্য। পবা উপজেলার এই চর এখন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে নতুন আকর্ষণ। ঋতুভেদে বদলে যায় এর রূপ বর্ষায় পানিতে টইটম্বুর, শীত-শরতে কাশফুলে ছাওয়া, গ্রীষ্মে বিস্তীর্ণ বালুচর। বিকেলের শেষ আলোয় নদীর পানিতে যখন সূর্যের প্রতিচ্ছবি পড়ে, তখন পুরো চরে নামে মোহনীয় আবহ।


স্থানীয়দের কাছে আগে থেকে পরিচিত হলেও ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়া ছবি-রিলসের মাধ্যমে এখন এই চর পরিচিতি পাচ্ছে সারা দেশে। ‘রাজশাহীর মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামটি কোনো সরকারি স্বীকৃতি নয়, বরং মুগ্ধ দর্শনার্থীদের দেওয়া উপমা তবে এই নামেই এখন চরটি আলোচনায়।