ডিলারদের কাছে প্রতিদিনের হিসাব নেবে প্রশাসন
রাজশাহীতে কোন দোকানে ডিএপি আছে, তো ইউরিয়া নেই, আবার কোনোটিতে টিএসপি আছে, তো ডিএপি নেই। আবার যেখানে সার পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে দাম পড়ছে বেশি। কৃষকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত ডিলাররা ভর্তুকির সার বাইরে কালোবাজারে বিক্রির কারণে সংকট দেখা দিচ্ছে। পরে খোলাবাজারে সেই সার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে এবার থেকে প্রতিদিনের সার বিক্রির হিসাব নেবে জেলা প্রশাসন।
রাজশাহী জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কালোবাজারি ও অবৈধভাবে সার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে ‘ভিজিল্যান্স টিমের’ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে এ পর্যন্ত এক হাজার ২৯৩ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে তিন লাখ টাকা। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আমন মৌসুমে সারের সংকট কাটাতে ডিলারদের কাছ থেকে প্রতিদিন বেচে কেনার হিসাব নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। কোনো অবৈধ মজুদ বা কালো বাজারের চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সারের ডিলারদের প্রতিদিন বিক্রি ও মজুদের তথ্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের দিতে হবে। কোনো ডিলার যদি এই তথ্য না দেয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র বলছে, যে পরিমাণ সার বরাদ্দ চাওয়া হয়, তা কখনোই পাওয়া যায় না। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুধু ইউরিয়া সারের চাহিদা দেওয়া হয়েছিল ৩ লাখ ৫ হাজার ৫৪৩ টন। বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৭১ হাজার ১০৯ টন। টিএসপি, ডিএপি, এমওপি সারও চাহিদার চেয়ে কয়েকগুণ কম বরাদ্দ পাওয়া যায়। মাঠের চাহিদা অনুযায়ী সার বরাদ্দ দিতে না পারার কারণে এ বছর আগের বছরের বরাদ্দের প্রায় সমপরিমাণ চাহিদা দেওয়া হয়। তবে সেটিও পাওয়া যায়নি।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইউরিয়ার চাহিদা দেওয়া হয়েছিল ৭৭ হাজার ৪৭০ টন। পাওয়া গেছে ৭১ হাজার ১০৯ টন। টিএসপির ২৫ হাজার ৮৮০ টন চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ হয়েছে ১৭ হাজার ২৭৪ টন। ডিএপি ৫৪ হাজার ৫৩০ টন চাহিদার বিপরীতে দেওয়া হয়েছে ৪৯ হাজার ৫৭৮ টন।
এদিকে, আগস্ট মাসের জন্য রাজশাহীতে ৭ হাজার ৫৭৪ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ করা হয়েছে। ১৮ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া গেছে ৪ হাজার ৭২৪ টন। ডিএপি ২ হাজার ৬৪৭ টনের মধ্যে পাওয়া গেছে ২ হাজার ১৮২ টন। টিএসপি ১ হাজার ৫১১ টনের মধ্যে পাওয়া গেছে ১ হাজার ২৪০ টন। এমওপি (পটাশ) ১ হাজার ৭৬০ টনের মধ্যে পাওয়া গেছে ১ হাজার ৪৯৬ টন।
রাজশাহী জেলায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের চাষ হয়েছে ৮৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। সেই হিসাবে বিঘাপ্রতি ডিএপি সারের বরাদ্দ ৪ কেজি ২০০ গ্রামের মতো। কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিঘাপ্রতি আমন ধানে ডিএপি প্রয়োগের আদর্শ পরিমাণ হচ্ছে ১০ কেজি।
এদিকে জেলায় পুকুর আছে ১৭ হাজার ৭৭৪ হেক্টর। এ জন্য কোনো সারই বরাদ্দ নেই। অথচ এসব পুকুরের জন্য প্রতি তিন মাসে ডিএপির চাহিদা হচ্ছে ১ হাজার ৯৯১ টন। এতে মাঠে ফসলের বরাদ্দ কমে যাচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, চাওয়ার চেয়ে বরাদ্দ একটু কম পাওয়া যায়। পুকুরে যে সার দেওয়া হয়, সেটাও তাদের বরাদ্দে নেই।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, সারের যে বরাদ্দ আছে। আপাতত কোন ঘাটতি নেই। কোন যায়গায় সার পাওয়া না গেলে আমাদের ভিজিলেন্স টিম সেখানে অভিযান চালাচ্ছে। যারা সার কালোবাজারি করে গুদামজাত করছে তা উদ্ধার করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, ডিলার সরকারি বরাদ্দের কতটুকু সার উত্তোলন করেছেন, কতটুকু গুদামে মজুদ রাখছেন ,এবং কতটুকু বিক্রি করছেনÑএর হিসাব প্রতিদিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে দিতে হবে। প্রত্যেক উপজেলায় আমাদের মোবাইল টিম রয়েছে। যদি কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে চায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী বলেন, কৃষকরা যাতে হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের নজরদারি করছে। সম্মিলিতভাবে সার কৃষকের কাছে যাবে। কৃষকের কাছে গেলে সার জমিতে যাবে। এই সারের কারণে কিন্তু আমাদের খাদ্য উৎপাদন করা হয়। সময় মত সার দিতে পারলে উৎপাদনও ভালো হবে। দেশের মানুষের খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।