রাজশাহীতে সনাক-ইয়েস সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশে দুর্নীতি হ্রাসে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি চালু করতে হবে। রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি নীতি-নির্ধারণী ও সেবা প্রদান ব্যবস্থায় নাগরিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে কার্যকর ও টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে হবে নাগরিকদের। স্থানীয় পর্যায়ের নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে সচেতন নাগরিক কমিটি মূল অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজশাহীতে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), রাজশাহীর উদ্যোগে আয়োজিত সনাক-ইয়েস সমন্বয় সভায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন।
সনাক সভাপতি প্রফেসর ড. দীপকেন্দ্র নাথ দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সনাক সহ-সভাপতি রাশেদ ইবনে ওবায়েদ (রিপন)। মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল দুর্নীতি হ্রাস করা। জনগণের কাছে প্রতিশ্রুত এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তাছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ শুধু কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক - সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি, নাগরিক অধিকার সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নাগরিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. দীপকেন্দ্র নাথ দাস বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ ও কার্যকর যোগাযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে তরুণদের নেতৃত্বে নতুন ও সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণ এবং সমমনা সংগঠনগুলোর সঙ্গে নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে।
সনাক সদস্য আলিমা খাতুন লিমার সঞ্চালনায় সভায় সনাক, ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) ও অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি)-এর চলমান কার্যক্রম, অর্জন, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীগণ স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন পরিচালনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা বিভিন্ন সেবাখাতে নাগরিক হয়রানি, তথ্যপ্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা, সেবার মান, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার ঘাটতিসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে মতামত প্রদান করেন।