বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

রাণীনগরে খোলা স্থানে ময়লার ভাগাড় ॥ দুর্গন্ধে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ ॥ ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগবালা

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি ৩১ আগস্ট ২০২৬ ১২:০১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি ৩১ আগস্ট ২০২৬ ১২:০১ অপরাহ্ন
রাণীনগরে খোলা স্থানে ময়লার ভাগাড় ॥ দুর্গন্ধে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ ॥ ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগবালা

নওগাঁর রাণীনগর কালিবাড়ি বাজার সংলগ্ন পাট গুদাম ও আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন খোলা স্থানে মুরগির অবশিষ্টসহ বিভিন্ন নোংরা আবর্জনার স্তুপ তৈরি করা হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে খোলা স্থানে এই ময়লা-আবর্জনা রাখার জন্য দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দুর্গন্ধের কারণে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ আর ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগবালা। 


অপরদিকে কুকুর, শেয়াল, কাক, চিল, শকুনসহ অন্যান্য পশু-পাখি ওই ময়লার ভাগাড়ে এসে খাবার খোঁজার কারণে প্রচণ্ড দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয় ফলে আশেপাশে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। দিন যতই যাচ্ছে ততই দুর্ভোগ প্রকট আকার ধারণ করছে। এছাড়া নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে বিদেশি মুরগির বিভিন্ন নোংরাসহ হরেক রকমের আবর্জনা ফেলার কারণে প্রতিদিন দিনে ও রাতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজার হাজার পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলেও আজ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।


উপজেলার খট্টেশ্বর গ্রামের নাজমুল হাসান রনজু জানান, আঞ্চলিক মহাসড়ক ও রেললাইনের মাঝের স্থানে বিদেশি মুরগিসহ বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা খোলা স্থানে রাখা হচ্ছে। বর্তমানে খোলা ওই স্থানটিতে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লার পাহাড় হয়ে গেছে। ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গেলে ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধে বমি চলে আসে। বিশেষ করে গরম মৌসুমে দুর্গন্ধের পরিমাণ এতোটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে ওই সড়ক দিয়ে খোলা অবস্থায় চলাচল করা যায় না। এছাড়া খোলা জায়গায় এই ময়লার ভাগাড় তৈরি করার কারণে পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। বছরের পর বছর পার হলেও এমন সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিবরতা সত্যিই অত্যন্ত দুঃখ্যজনক।


উপজেলার কালিবাড়ি হাট সংলগ্ন দড়িয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা শামীম হোসেন জানান, বাজারের উত্তর দিকে জনবসতি এলাকা পাট গুদামের ড্রেনের আশেপাশের জায়গাজুড়ে তৈরি করা হয়েছে ময়লার ভাগাড়। খোলা স্থানে তৈরি করা ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধে বাড়িতে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। হাটের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে হাঁটু পানির মধ্যদিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে করে বিভিন্ন চর্ম রোগে আক্রান্ত হতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাসহ শিশুরা। এছাড়া ময়লার ভাগাড়ে খাবারের সন্ধানে আসা শেয়াল, কুকুরের কামড়ের শিকারও হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা। এমন নষ্ট পরিবেশে স্থানীয় বাসিন্দারা বছরের পর বছর ধরে বসবাস করে আসলেও হাট কর্তৃপক্ষ কিংবা প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কোন ব্যবস্থা করতে পারেনি।


কালিবাড়ি হাটের মুরগি ব্যবসায়ী আসলাম হোসেন জানান, হাটের ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট কোন ব্যবস্থা না থাকার কারণে তারা মুরগির উচ্ছিষ্টাংশ হাটের পাশে এবং আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে দুর্গন্ধের সৃষ্টির মাধ্যমে পরিবেশ নষ্ট হলেও তাদের কিছু করার নাই। যদি প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা হতো তাহলে সেখানেই তারা ময়লা-আবর্জনা ফেলতো। প্রতি বছর হাট থেকে কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও হাটের উন্নয়নে কিছুই ব্যয় করা হয় না।


কালিবাড়ি বাজারের আড়ৎদার মো. উজ্জ্বল হোসেন জানান, বাজারের জায়গা কম হওয়ার কারণে এমন অব্যবস্থাপনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অন্য কোন নির্জন স্থানে ময়লা রাখার জায়গা তৈরি করে ভ্যানগাড়ির মাধ্যমে যদি বাজার ও তার আশেপাশের ময়লা-আবর্জনা পরিবহন করা যেতো তাহলে এমন নষ্ট পরিবেশে বসবাস করতে হতো না। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ থেকে বাঁচাতে দ্রুতই বিকল্প স্থানে ময়লা-আবর্জনা রাখার ব্যবস্থা করার কোন বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন। 


কালিবাড়ি বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ফরহাদ হোসেন মন্ডল জানান, বাজারের জায়গা অনেক ছোট হওয়ার কারণে গবাদিপশু অন্যস্থানে জবাই করতে হয়। এছাড়া বাজারের ময়লা-আবর্জনা রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারণে সকল ময়লা-আবর্জনা ওই দুটি স্থানে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। যার কারণে ময়লা-আবর্জনার কারণে দুর্গন্ধের সৃষ্টির মাধ্যমে পরিবেশ দূষিত হলেও কিছু করার নেই। বাজারের আশেপাশের স্থানে সরকারি কোন জায়গা না থাকার কারণে এখন পর্যন্ত ময়লা-আবর্জনা রাখার নির্দিষ্ট কোন ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। বাজারে জায়গা স্বল্পতার কারণে নির্দিষ্ট একটি স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিকল্প পথে সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।