বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

বগুড়ায় চাঁদা না দেওয়ায় কুপিয়ে হত্যার দায়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

বগুড়া প্রতিনিধি ৩১ আগস্ট ২০২৬ ০৮:১১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বগুড়া প্রতিনিধি ৩১ আগস্ট ২০২৬ ০৮:১১ অপরাহ্ন
বগুড়ায় চাঁদা না দেওয়ায় কুপিয়ে হত্যার দায়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

বগুড়ায় চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাগিবুল হাসান হৃদয় নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। ছেলেকে বাঁচাতে  গিয়ে তার বাবা মামুনুর রশিদও এ হামলার শিকার হয়েছিলেন।  এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সেই হত্যা মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।


সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৫-এর বিচারক কৌশিক আহমেদ খোন্দকার।


মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সাদ্দাম হোসেন স্বাধীন ও মো. রাব্বি। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আশিক, শাকিল ও মতিন। একই সঙ্গে পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।


রায়ের আদেশে জরিমানার অর্থের অর্ধেক নিহত হৃদয়ের সন্তানকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বাকি অর্ধেক রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে।


মামলা সূত্রে জানা যায়,  ২০২১ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যার দিকে বগুড়া মহানগরের কৈপাড়া পুকুরপাড় এলাকায় হৃদয়দের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদার দাবিতে হামলা চালায় আসামিরা। চাঁদা না পেয়ে দোকানের মধ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হৃদয়কে আহত করে। হৃদয়ের বাবা মামুনুর রশিদ ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে হৃদয় মারা যান। এ ঘটনায় নিহতে মা আয়েশা সিদ্দিকা বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।


এ ঘটনায় হৃদয়ের মা আয়েশা সিদ্দিকা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আজ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে রায় দেন।


রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাসুদার রহমান বলেন, চাঁদা না পেয়ে আসামিরা হৃদয়কে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। মামলার তদন্ত শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত পাঁচ আসামিকে দণ্ড দিয়েছেন। তিনি দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।


রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেন হৃদয়ের বাবা-মা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে হৃদয়ের মা আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, তার একমাত্র ছেলে কোরআনের হাফেজ ছিলেন। ঈদের আগের দিন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে ঈদের দিন তার ছেলে মারা যান। আর ঈদের পরদিন তার পুত্রবধূ সন্তান প্রসব করেন।

আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। আমরা রায়ে সন্তুষ্ট। দ্রুত এই রায় কার্যকর হোক।’

হৃদয়ের বাবা মামুনুর রশিদও কান্নাজড়িত কণ্ঠে  আদালতের রায়ে সন্তুষ্টতা প্রকাশ করেছেন।