দশ টাকার চরকিতে জীবনের চাকা ঘোরে রবিউলের
একটু বাতাসেই চরকির ছোট ছোট পাখাগুলো ঘুরে ওঠে। বাতাসের সাথে রঙিন পাখাগুলো ঘুরতে দেখে শিশুর মুখে খুশির ঝিলিক পড়ে। এই চরকি ঘুরিয়ে শিশুরা যেমন আনন্দিত হয় তেমনি চরকি ঘুরিয়ে নিজের জীবনের চাকাও ঘোরায় কিশোর বয়সী রবিউল ইসলাম। লাল, নীল, বেগুনি, হলুদসহ নানান রঙের রঙিন কাগজে নিজ হাতে তৈরি করা চরকি নিয়ে প্রতিদিন পথ থেকে পথে ঘুরে বেড়ায় রবিউল।
প্রতিটি চরকি মাত্র ১০ টাকায় বিক্রি করে দিন শেষে যা আয় হয় তা দিয়ে পরিবারে থাকা মা বাবা ভাইবোনদের মুখেও হাসি ফোটানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা তার। নওগাঁ জেলার আত্রাইয়ের গ্রামে বসবাস রবিউলের। সেখান থেকে চরকি সাজানো বোঝা নিয়ে কখনো ট্রেনে, কখনো বাসে চেপে সে আসে ঈশ্বরদী, পাবনা, ভেড়ামারাসহ বিভিন্ন শহর ও গ্রামে। চরকি নিয়ে ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন শহরের এ পথ ও পথে দিনভর ঘুরে বেড়ায় রবিউল। চরকি বিক্রি করেই চলে তার সংসার। চলতি পথে শহরের স্টেশন রোডে দেখা হয় রবিউলের সঙ্গে। হাঁটতে হাঁটতেই কথা হয় তার সঙ্গে।
রবিউল জানায়, এখন শিশুরা মোবাইলের গেম আর কার্টুন দেখে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। আগের শিশুদের মত এখনকার শিশুরা চরকি ঘোরানোয় তেমন একটা অভ্যস্ত নয়। রবিউলের ভাষ্য, গ্রামে মেলার আয়োজন হলে চরকি বিক্রি ভালোই হয় কিন্তু এখন আগের মত গ্রামে বা শহরে মেলাও তেমন একটা হয়না, ফলে পথে পথে ঘুরে ঘুরেই বিক্রি করতে হয় চরকি। দিন শেষে ৫/৬শো টাকার বেশি বিক্রি হয়না। খরচ বাদ দিলে ৩০০ টাকার বেশি আয় করা দুরুহ হয়ে পড়ে। এই নিয়েই জীবনের চাকা ঘোরানোর চেষ্টা তার।