বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

ঈশ্বরদীর পদ্মায় বালুর ব্যবসা নিয়ে গোলাগুলি

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ৩১ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৫৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ৩১ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৫৪ অপরাহ্ন
ঈশ্বরদীর পদ্মায় বালুর ব্যবসা নিয়ে গোলাগুলি

পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদী এলাকায় অবৈধ বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ও বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ফের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। 


রোববার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাতে ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের ইসলাম পাড়ার ঘোষপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে তবে কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সাঁড়ার ইসলামপাড়া ঘোষপাড়া এলাকার পদ্মাপাড়ের গ্রামে বসবাসকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 


স্থানীয়রা জানান, রোববার মধ্যরাতে ঘোষপাড়া সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীরে জামায়াতে ইসলামী’র কয়েকজন স্থানীয় নেতাদের যৌথ মালিকানাধীন একটি ‘বালুর খোলা’য় ড্রেজার দিয়ে বালু আনলোড করার কাজ চলছিল। এ সময় স্পিডবোট ও ট্রলারযোগে একদল সশস্ত্র অস্ত্রধারীরা এসে বালুর খোলা লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। তবে কারা এই হামলা করেছে তা জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বালুর খোলায় অবস্থানরত জামায়াত কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের প্রতিহত করে।


রাতে উভয়পক্ষের এই মুখোমুখি সংঘর্ষে পুরো নদীর তীরবর্তী এলাকায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ চরম ভীতিসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে গুলিবর্ষণকারীরা স্পীডবোট ও ট্রলার নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাতের আঁধারে ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়া সীমান্তে পদ্মার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতাকর্মীরা। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ওই বালু সিন্ডিকেটের কারো কারো মধ্যে সম্প্রতি বিরোধ তৈরি হয়। এর জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। 


এ বিষয়ে বালু ব্যবসায়ী ও জামায়াত নেতা মো. ইলিয়াস খানের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি নামাজে আছেন বলে জানান, কিন্তু তার পর থেকে তার ব্যক্তিগত মুঠো ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এর আগেও একাধিকবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাতে পদ্মা নদীর এই গোলাগুলির ঘটনাটি ঈশ্বরদী-কুষ্টিয়া সীমানার মধ্যে ঘটেছে, ওসি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই গোলাগুলির শব্দ পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কারা গুলি করতে পারে তার সত্যতা উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।