রাজশাহীতে রুফটপ সোলার ব্যবহারে জনসচেতনতা তৈরিতে সচেতনতামূলক প্রি-গেম
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, রুফটপ সোলারের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রাজশাহীতে “ÒBenefits of Rooftop Solar: Community Knowledge, Practices and Way Forward” শীর্ষক একটি সচেতনতামূলক প্রি-গেম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজশাহী জেলা পরিষদ ভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোঃ এরশাদ আলী ঈশা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) উম্মে ফাতিমা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোঃ এরশাদ আলী ঈশা বলেন, “দেশের জ্বালানি চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। সরকারি-বেসরকারি ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনার ছাদকে কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) উম্মে ফাতিমা বলেন, “রুফটপ সোলার একটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা। আমাদের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনার ছাদকে কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব।”
পরিবর্তন-এর পরিচালক রাসেদ রিপন বলেন, “দেশের বিপুলসংখ্যক বাড়ি, সরকারি স্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগানো গেলে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার অনেকাংশে বাড়ানো সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে পরিবর্তন-এর ক্যাম্পেইন অ্যাসোসিয়েট রনি রায় রুফটপ সোলারের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, রুফটপ সোলার একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানির উৎস, অন্যদিকে এটি বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণের ফলে সোলার প্যানেল স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ, কারিগরি সেবা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, “রুফটপ সোলারকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি হিসেবে দেখলে হবে না; এটি একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সাশ্রয়, পরিবেশ সুরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং নতুন কর্মসংস্থানের একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। বিশেষ করে তরুণদের জন্য এ খাতে দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবর্তন-এর ক্যাম্পেইন ফ্যাসিলিটেটর হাসিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মোকাবিলা, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রুফটপ সোলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে নগর এলাকায় অব্যবহৃত ছাদগুলোকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা গেলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা ও জ্বালানি নিরাপত্তায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে রুফটপ সোলারের কমিউনিটি জ্ঞান ও বর্তমান চর্চা, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুবিধা, সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়। রাজশাহীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে স্থানীয় সরকার, নাগরিক সমাজ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানটি ঋড়ৎঁস ড়হ ঊপড়ষড়মু ধহফ উবাবষড়ঢ়সবহঃ (ঋঊউ), পরিবর্তন, ঈখঊঅঘ এবং ইধহমষধফবংয ডড়ৎশরহম এৎড়ঁঢ় ড়হ ঊীঃবৎহধষ উবনঃ (ইডএঊউ)-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।