বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

পদ নেই ছাত্রদলে, তবু ‘নেতা’ পরিচয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৩৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৩৩ অপরাহ্ন
পদ নেই ছাত্রদলে, তবু ‘নেতা’ পরিচয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ

রাজশাহীর পবা উপজেলায় গভীর রাতে দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে টহল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদকে কেন্দ্র করে কর্ণহার থানার সামনে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এক তরুণ। বিক্ষোভে নিজেকে ছাত্রদল নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল আমিন বলেছেন, সাদমান সাকিবের ছাত্রদলের কোনো সাংগঠনিক পদ নেই।


মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্ণহার থানার সামনে অনুষ্ঠিত ওই মশাল মিছিল ও সমাবেশে বক্তব্য দেন সাদমান সাকিব। তাঁর বাড়ি পবা উপজেলার দারুশা রাধানগর গ্রামে। তিনি রাজশাহী জেলা তাঁতী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। গত ১৫ আগস্ট তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং জেলা ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী বলে জানা গেছে।


রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল আমিন বলেন, ‘সাদমান সাকিব রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের কোনো পদে নেই। তিনি বর্তমান জেলা ছাত্রদলের কোনো কমিটির সদস্য বা দায়িত্বশীল নেতা নন। ছাত্রদলের নেতা হিসেবে তাঁর পরিচয় দেওয়ার সুযোগ নেই।’ সাদমান সাকিবের অভিযোগ, গত ২৮ আগস্ট রাতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে তাঁর দুই কর্মী নাজমুল ও রেফাজুল তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন।


রাত ১টার পর শিশাপাড়া ঈদগাহের সামনে কর্ণহার থানা পুলিশের একটি টহল দল তাঁদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাঁর ভাষ্য, এ সময় উজ্জ্বল নামের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) তল্লাশির নামে তাঁদের হয়রানি করেন এবং তাঁকে নিয়ে কটূক্তি করেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশকে জানানো হয়েছিল, তারা আমাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে ফিরছেন। এরপরও তল্লাশির নামে তাদের হয়রানি করা হয় এবং আমাকে কটূক্তি করা হয়।’ মশাল মিছিল শেষে থানার সামনে সমাবেশে তিনি বলেন, ‘বয়স কম দেখে আমাদের হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।


সন্দেহ হলে পুলিশ থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। কিন্তু পুলিশের আচরণ খারাপ ছিল।’ এ সময় তিনি স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সমালোচনা করেন এবং ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তবে পুলিশের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। আরএমপির মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, থানার সামনে মশাল মিছিল ও সমাবেশের ভিডিও দেখার পর বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সাদমান সাকিবের দুই পরিচিত ব্যক্তি রাত ১টার পর মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন। টহল পুলিশ তাঁদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।


এ সময় তাঁরা সাদমান সাকিবকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে আসার কথা জানান। গাজিউর রহমান আরও বলেন, দায়িত্বে থাকা এএসআই উজ্জ্বল জানিয়েছেন, তিনি সাদমান সাকিবকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। ফলে তাঁর পরিচয় জানার পরও হয়রানি করার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই থানার সামনে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে কর্ণহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।