বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

নাটোরে গৃহবধুকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

শ্বশুর শাশুড়ির দুই বছরের কারাদণ্ড
নাটোর প্রতিনিধি ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:০০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নাটোর প্রতিনিধি ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:০০ অপরাহ্ন
নাটোরে গৃহবধুকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

নাটোরের গুরুদাসপুরে মরিয়ম খাতুন নামে এক গৃহবধুকে (২০) গলা টিপে হত্যার দায়ে স্বামী ফরহাদ হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা. করেছেন আদালত। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এই রায় ঘোষণা করে আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের সশ্রোম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।


এছারা ওই মামলায় তথ্য গোপন ও আলামত গোপন করার দায়ে নিহতের শ্বশুর ফজলুর রহমান এবং শাশুড়ি ফাহিমা বেগমকে  ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ৪ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।


নাটোর জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর জানান, ২০১৪ সালে নাটোরের গুরুদাসপুর থানার পিপলা গ্রামের মোঃ ফজলুর রহমানের ছেলে মোঃ ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে বামনবাড়িয়া গ্রামের মোঃ আমিরুল মণ্ডলের মেয়ে মরিয়ম খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।


২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরিয়মের পরিবার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দেখতে পান মরিয়মের নিথর দেহ শোবার ঘরে পড়ে আছে। তার গলায় দুই পাশে স্পষ্ট আঙুলের দাগ দেখা যায়। পরবর্তীতে জানা যায়, ঘাতক স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা পারিবারিক বিরোধের জেরে মরিয়মকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মোঃ আমিরুল মণ্ডল বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের উপস্থিতিতে  প্রধান আসামি স্বামী ফরহাদ হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর দুই আসামি শ্বশুর ও শাশুড়িকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।