শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬

বৃষ্টির পানিতে প্রাণ ফিরেছে আমনে, ভালো ফলনের স্বপ্ন কৃষকের

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:০৪ অপরাহ্ন বিশেষ প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:০৪ অপরাহ্ন
বৃষ্টির পানিতে প্রাণ ফিরেছে আমনে, ভালো ফলনের স্বপ্ন কৃষকের

আমন ধানে ফুল আসা ও দানা গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষায় ছিলেন কৃষকেরা। কয়েক দিনের খরা ও সেচ নির্ভরতায় যখন বাড়ছিল উৎপাদন খরচ ও ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তা, তখন বৃষ্টিতে সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে। চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৯৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড ক


রেছে আবহাওয়া অফিস। দীর্ঘ শুষ্কতার পর এই বৃষ্টিতে আমনখেতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ফিরেছে, কমেছে সেচের প্রয়োজনও। ফলে ধানের ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বিঘাপ্রতি প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত সেচ খরচ সাশ্রয়ের আশা করছেন কৃষকেরা। প্রকৃতির সহায়তা আর কৃষকের নিরলস পরিচর্যায় এখন রাজশাহীর বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ আমনের সমারোহ। খরার দুশ্চিন্তা আপাতত কাটিয়ে কৃষকের চোখ এখন পরিপক্ব সোনালি ধানের অপেক্ষায়। 



সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পবা উপজেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক বৃষ্টির পর আমনখেতের চেহারা বদলে গেছে। জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা তৈরি হওয়ায় সেচের প্রয়োজন কমেছে। পবা উপজেলার উজিরপুকুর এলাকার কৃষক নাজির উদ্দিন সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। তিনি বলেন, “বৃষ্টিতে ধানখেতের কোনো ক্ষতি হয়নি, বরং দারুণ উপকার হয়েছে। কৃত্রিম পানির চেয়ে বৃষ্টির পানি পেয়ে ধানগাছগুলো খুব সতেজ ও সুন্দর হয়ে উঠছে। গত বছর বিঘায় ২২ মণ ধান পেয়েছিলাম। এবারও ভালো ফলনের আশা করছি।” কৃষকদের হিসাবে, বিএমডিএর ডিপের সেচে প্রতি বিঘায় প্রায় ২৫০ টাকা খরচ হয়।


সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে দুই থেকে তিনবার সেচ দেওয়ার প্রয়োজন কমে যাওয়ায় বিঘাপ্রতি প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কৃষকেরা বলছেন, বৃষ্টির পানিতে ধানের পাতা ধুয়ে পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি গরমজনিত রোগবালাই ও পোকামাকড়ের ঝুঁকিও কিছুটা কমে। পবা উপজেলার খড়খড়ি এলাকার কৃষক আস্তান আলী বলেন, “আমন ধানের জন্য বৃষ্টির পানি পরম আশীর্বাদ। সেচ ও কীটনাশক—দুই খাতেই খরচ কমে যায়। গত বছর প্রতি বিঘায় ২০ মণ ধান পেয়েছিলাম। এবারও ভালো ফলনের আশা করছি।” 


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলার ৮২ হাজার ৪৫২ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে তিন লাখ ১৪ হাজার ৩৩৬ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকে বীজতলা তৈরি, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। তবে কয়েক দিনের শুষ্ক আবহাওয়া ও সেচ নির্ভরতার কারণে তাঁদের দুশ্চিন্তা বাড়ছিল। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে হওয়া বৃষ্টিতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৯৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের শুষ্কতার পর এ বৃষ্টিতে জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ফিরে এসেছে। 


কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ধানে ফুল আসা ও দানা গঠনের সময়ে এ ধরনের বৃষ্টি ফলনের জন্য ইতিবাচক। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে জেলার ৮২ হাজার ৪৫২ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এ সময়ে বৃষ্টি হলে আমন ধানের বৃদ্ধি ও ফলন ভালো হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে ধানে ফুল আসা ও দানা গঠনের সময়ে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবার আধুনিক জাত ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় কৃষকদের মধ্যে ভালো ফলনের প্রত্যাশাও রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।#